জনবল সংকটে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৬

দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্স

বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা 

দাকোপে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার ও জনবল সংকটে চিকিত্সাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত রোগীর উপচেপড়া ভিড়ে মানসম্মত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অল্প সংখ্যক ডাক্তারকে। ফলে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং প্রয়োজনীয় জনবলের দাবি এলাকাবাসীর।  এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে প্রায় ৭ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ৩১ শয্যা হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়। ২০০৭ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে স্বাস্থ্যসেবার কোনো উন্নতি হয়নি। আগের একই জনবল দিয়ে চলে আসছে সেবা কার্যক্রম। হাসপাতালটিতে ২৪ জন চিকিত্সকের স্থলে বর্তমান রয়েছেন মাত্র চার জন ডাক্তার। দক্ষিণ খুলনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল হাসপাতাল হচ্ছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্স। পরিবেশ ও অবস্থানগত কারণে এ উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বটিয়াঘাটা, রামপাল, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার শত শত রোগী এই হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা নিয়ে থাকেন। তাছাড়া এই কমপ্লেক্সটিতে জটিল রোগের অপারেশনও হয়ে থাকে। যে কারণে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় প্রাই সময় লেগে থাকে এবং হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে গাদাগাদি অবস্থায় অতিকষ্টে স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেখা যায়। বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অন্যান্য এলাকায় চিকিত্সাসেবায় কিছুটা পরিবর্তন আসলেও এখানে রয়েছে সেই পুরোনো মান্ধাতার আমল। ফলে দীর্ঘদিন জনবলের অভাবে এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের। এছাড়া জনবল সংকটের কারণে এক্সরে ও আলট্রাসনো মেশিন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতালে ভর্তি রামপাল উপজেলার কাপাশডাঙ্গা এলাকার আনোয়ারা বেগম ও বটিয়াঘাটার বুনর আবাদ এলাকার রেনুকা বিশ্বাসসহ একাধিক রোগীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এই হাসপাতালটি তাদের নিকটবর্তী এবং চিকিত্সাসেবায় সিজার জটিল রোগের অপারেশনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা থাকায় এখানে চিকিত্সা নিতে আসেন। কিন্তু রোগীর অতিরিক্ত চাপ থাকায় সবসময় সিট পাওয়া যায় না বলে জানান।      

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন সাধারণ রোগীর পদচারণা ঘটে। এরপর আন্তঃবিভাগে রয়েছে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী। এছাড়া নামে ৫০ শয্যা হলেও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩০ জন রোগী ভর্তি থাকে। ফলে বেড সংকটের কারণে রোগীদের বারান্দার মেঝেতে গাদাগাদি অবস্থায় চিকিত্সাসেবা দিতে হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান জানান, প্রায়ই সময়ে হাসপাতালে রোগীদের ভিড় লেগে থাকে। তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে কথা বলে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের চেষ্টা করবেন বলে জানান।