স্পোর্টস ডেস্ক
সুপার ওভারের পরিবর্তিত নিয়মকে স্বাগত জানিয়েছেন লিটল মাস্টার খ্যাত শচীন টেন্ডুলকার। স্বাগত জানানোরই কথা। কারণ নিয়মটা কেমন হতে পারে, সেটা বিশ্বকাপ ফাইনালের পর তিনিই প্রথম প্রকাশ্যে বলেছিলেন।
শচীন নিয়ম পরিবর্তনের পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি মনে করি, এই পরিবর্তনটা খুবই জরুরি ছিল। যখন কোনোভাবেই ফলাফল পাওয়া যায় না, তখন এটাকেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উপায় বলে মনে করি আমি।’
লর্ডসে গেল বিশ্বকাপের ফাইনালটা ছিল অনেক নাটকীয়তায় ভরা। ওভার থ্রো নিয়ে জটিলতা শেষে দুই দল পাল্লা দিয়ে লড়াই করে ম্যাচটাকে সুপার ওভারে নিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সুপার ওভারেও সরাসরি কোনো ফল আসেনি। দুই দলের রান সমান হওয়ায় বাউন্ডারি সংখ্যায় এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।
যদিও বিশ্বকাপ শেষে আইসিসির ভূতুড়ে সেই নিয়ম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক কম হয়নি। স্বয়ং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবও (এমসিসি) মন্তব্য করেছিল যে এই নিয়ম এখন পরিবর্তনের দাবি রাখে। এবার আইসিসিও সেই দাবি মেনে নিল। পরিবর্তন এলো আইসিসি ইভেন্টের সুপার ওভারের নিয়মে।
দুবাইয়ে গত সোমবার অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো ম্যাচ সুপারওভারেও টাই হলে পরে আবারও সুপারওভার আয়োজন করা হবে। ম্যাচের ফলাফল না আসা পর্যন্ত সুপারওভার চলবে। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কার্যনির্বাহী কমিটি ও ক্রিকেট কমিটি—দুই পক্ষই নতুন এই নিয়মে সম্মতি প্রকাশ করেছে।
এই নিয়ম করা হয়েছে শুধু ইভেন্টের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে, মানে নকআউট রাউন্ডের ম্যাচের জন্য। এর অর্থ, আগামীতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো আসরে বা আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে সুপারওভার টাই হলে মাঠে গড়াবে একাধিক সুপারওভার। মানে যতক্ষণ অবধি কোনো দল এগিয়ে না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। তবে কোনো টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুপারওভারের পর ম্যাচ টাই হলে সেই ম্যাচ ড্র বলেই গণ্য হবে।
নতুন এই নিয়ম শচীনের পছন্দ হলেও পছন্দ হয়নি নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ক্রেইগ ম্যাকমিলানের। গেল বিশ্বকাপের আসরেও দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করা ম্যাকমিলান বলেন, ‘একটু বেশিই দেরি হয়ে গেল। যাই হোক, এবার অন্য সমস্যাগুলো নিয়েও ভাবা যায় কি আইসিসি? যেমন ব্যাটসম্যানের গায়ে বল লাগলে বা দিক পরিবর্তন করলে সেটাকে ডেড বল ঘোষণা করা।’
