প্রেসিডেন্ট সৌরভকে কলকাতার সংবর্ধনা

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৩

স্পোর্টস রিপোর্টার

২৩ বছর আগে এমনই এক বিকেলে তিনি যখন কলকাতায় ফিরেছিলেন, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল জনজীবন। গত মঙ্গলবার অনেকটা যেন সেই ছবি ফিরে আসার উপক্রম হয়েছিল। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ইডেন—তাকে এক ঝলক দেখার জন্য উদ্বেল ক্রিকেট-ভক্তরা।

সৌরভের গাড়ি এসে দাঁড়াতেই আতশবাজির রোশনাইয়ে সিএবি যেন আরো রঙিন হয়ে উঠল। গাড়ি থেকে তিনি নামতেই পুষ্পবৃষ্টিতে ঢেকে গেল চারপাশ। লাল কার্পেটে স্বাগত জানানো হলো নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্টকে। প্রবল ভিড় ঠেলে সিএবির ভেতরে তাকে নিয়ে যেতে রীতিমতো নাজেহাল পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা। সিএবি আধিকারিকেরা ফুলের তোড়ায় অভ্যর্থনা জানালেন তাকে। কেকও কাটলেন। কিন্তু দুই মুহূর্তকে মেলাতে পারলেন না সৌরভ। বললেন, ‘নিঃসন্দেহে এই যাত্রাটা খুবই সুখকর। খুব বড়ো একটা দায়িত্ব পেয়েছি। আশা করি, যত দিন সময় রয়েছে, তার মধ্যে প্রত্যাশামাফিক কাজ করতে পারব। তবে ১৯৯৬ সালের মুহূর্তটা আজকের চেয়ে ৩০ গুণ বড়ো। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভারতের হয়ে প্রথম টেস্ট খেলার মতো সুখস্মৃতি আর কিছু হয় না।’

২৩ অক্টোবর সরকারিভাবে বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি কাজ শুরু করবেন। কিন্তু এর আগেই যেন তার কাজ শুরু হয়ে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব আর ক্রিকেট প্রশাসকের ভূমিকাটা সম্পূর্ণ দুটি আলাদা ব্যাপার। অধিনায়ক হিসেবে চাপ, প্রত্যাশা, সমালোচনা ছিল অনেক বেশি তীব্র। গোটা ব্যাপারটাই ছিল মাঠের মধ্যে। আর এই দায়িত্বটা মাঠের বাইরের।’

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার যাবতীয় জল্পনাকে আবারও উড়িয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের মন্তব্য, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমি যখন দেখা করেছিলাম, তখনো এ ধরনের রাজনৈতিক প্রশ্ন উড়ে এসেছিল। কিন্তু তার পরের ফলাফলও সবাই দেখেছেন। এই প্রথমবার অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করলাম। সেই অভিজ্ঞতা অবশ্যই অন্য ধরনের। তবে আমি যেমন একবারের জন্যও প্রশ্ন করিনি বোর্ডে কোনো পদ পাব কি না, তেমনি অন্য কোনো ব্যাপার নিয়ে এমন কোনো কথাবার্তা হয়নি, যার সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে।’  বিরাট কোহালির নেতৃত্বে দেশের মাঠে টানা ১১ টেস্ট সিরিজ জয়ের কীর্তির মধ্যেও উঠে আসছে বড়ো মঞ্চে এখনো ট্রফি না জেতার খামতি। সৌরভ বলেছেন, ‘শুধু দেশেই নয়, বিদেশের মাটিতেও এই ভারতীয় দল দারুণ খেলছে। কিন্তু বড়ো মঞ্চেও ট্রফি জিততে হবে। আমি কখনোই বলব না, প্রতিবারই ওদের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। সেটা সম্ভব নয়। কিন্তু এই দলের যে ক্ষমতা রয়েছে, সেখানে সাতটা বড়ো টুর্নামেন্টে কেন ট্রফি এল না, তা নিয়েও ভাবতে হবে। ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে আরো তৈরি হতে হবে।’

বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নতুন দলকে নিয়ে সৌরভ দিয়েছেন পরিবর্তনের বার্তা। বলেছেন, ‘যখন অধিনায়কত্ব পেয়েছিলাম, কঠিন সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট। এবারও যখন দায়িত্ব পেলাম, তখন ভারত ক্রিকেট প্রশাসনই প্রবল সংকটে আক্রান্ত। সেই ছবি পালটাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো মহাশক্তি ভারতই। আমাদের কাজ হবে সেই অবস্থা ফিরিয়ে আনা। শুধু বোর্ডের ভেতরে নয়, বিশ্ব ক্রিকেট মানচিত্রেও।’