দেশের উন্নয়নে ব্যাংকের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৯

গত দশ বছরের ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন সাফল্য এবং দেশের উন্নয়নে ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরেছেন ব্যাংকের এমডিরা। গতকাল ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়। ব্যাংকখাত থেকে গত ১০ বছরে ২২ হাজার ৫০২ কোটি লুট হয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ৩ দিন আগে এমন তথ্য দেওয়ার পর এ সংবাদ সম্মেলন করলো এবিবি। তবে এতে এক লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ এবং সংঘটিত অনিয়ম সম্পর্কে এমডিরা কোনো তথ্য দেননি। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ব্যাপক অর্জনের মধ্যে কিছু অনিয়ম হয়েছে।

এবিবি সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অর্থনীতির আকার বহুগুণ বেড়েছে। ব্যাংকখাতসহ সবাই মিলে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সব সময় নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কাজ করতে গেলে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। যেসব খবর সংবাদমাধ্যমে আসে সেগুলো নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। ব্যাংক খাতে অনেক সাফল্য আছে সেগুলো নিয়েও কথা বলা উচিত।

ব্যাংক এশিয়ার এমডি ও এবিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আরফান আলী বলেন, ব্যাংকের আকার অনেক বড় হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং চালু করার ফলে অনেক মানুষ সেবা পাচ্ছেন। ব্যাংকগুলোর ১০ হাজার শাখা, ৭৫৮টি ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান, ৩৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ১৭টি বীমা ও ৮২ হাজার ৩৪৬টি সমবায় সমিতি গড়ে উঠেছে। ফলে ব্যাংকিংয়ে সবাই আসছে। ২০১৩ সালে ১ লাখ মানুষের জন্য শাখা ছিল ৮টি এখন বেড়ে হয়েছে ৯টি, এটিএম ছিল ৫টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৮টি, মোবাইল আউট ছিল ১৮৬টি এখন বেড়ে হয়েছে ৬৬৭টি।

সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ব্যাংকের হাত ধরে শিল্পায়ন হয়েছে। অনেক কাজ করতে গিয়ে কিছু ভুল হয়েছে। ভাত খেতে গেলে কিছু ভাত পড়তেই পারে। খেলাপি ঋণ আছে, থাকবে তবে সেটি মাত্রার মধ্যে রাখতে হবে।

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস উল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতে অকল্পনীয় অগ্রগতি হয়েছে। ব্যাংক খাত শক্তিশালী বলেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। নিজের টাকায় পদ্মাসেতু করা সম্ভব হচ্ছে।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি এবং এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা জবাবদিহিতা করছি। আমাদের ব্যাংকগুলো ভালো করছে বলে বিদেশিরা আসছেন এখানে ব্যবসা করতে। ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি এবং এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ব্যাংকগুলো অনেক ভালো করছে। আমরা ছোট-মাঝারি ধরনের ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছি।

আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি শাহ এ সারওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির ব্যাপক উলম্ফন হয়েছে। ঐতিহ্যগত বিনা পুঁজি থেকে আমরা পরিশ্রম করে অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নতি করেছি। এর পেছনে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। কিছু ভুলের কারণে শুধু নেতিবাচক আলোচনা করা উচিত নয়। ইসলামী ব্যাংকের এমডি মাহবুবুর রহমান, ব্যাংকের চেষ্টার ফলে উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে উঠেছে। স্বাধীনতার সময় ব্যবসা-বাণিজ্য ২২ পরিবারের হাতে ছিল। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর পোশাক খাতসহ বড় বড় শিল্প ব্যাংকের হাত ধরে বড় হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর গত দশ বছর ব্যাংকিং খাতের অর্জন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।