নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সচেতন হওয়ার তাগিদ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫৮

উদ্বৃত্ত খাদ্য রপ্তানির জন্য বাজার খুঁজছি : খাদ্যমন্ত্রী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নিরাপদ ও পুষ্টিমানের খাবার নিশ্চিতের জন্য দেশের জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, শুধু আইন দিয়ে এবং সরকার চেষ্টা করলেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে না, এজন্য জনগণকেও সচেতন হতে হবে। গতকাল বুধবার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (এফএও) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উত্পাদন, সংগ্রহ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের শতভাগ পুষ্টিমানের খাবার নিশ্চিত করে অচিরেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হব। তিনি বলেন, দেশ আজ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে উদ্বৃত্তও থাকছে। আমরা এ উদ্বৃত্ত খাদ্য রপ্তানির জন্য বাজার খুঁজছি। খাদ্যমন্ত্রী কৃষির সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের বহু দেশের মানুষ বাংলাদেশের কৃষির এই অকল্পনীয় উন্নয়নের গল্প শুনতে আসেন। আমাদের কৃষি এখন বিশ্বের অন্যতম রোল মডেল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, নতুন করে আবারও গোয়ালঘর ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের গ্রামে এমন কোনো বাড়ি পাবেন না, যেখানে একটিও গরু পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে হঠাত্ করে দুধে সীসা আছে বলে প্রচার করা হলো। ধস নামল দুধের বাজারে। কৃষকের মাথায় হাত এবং খামারিরা পথে বসে গেল। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশে পোলট্রির মাংস রফতানির প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে এক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, কেউ যাতে সীসা ঢুকাতে না পারে। তিনি বলেন, আমরা এগিয়ে যেতে চাইলেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র আমাদেরকে টেনে ধরার চেষ্টা করছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আরিফুর রহমান অপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন এফএও বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। সেমিনারে খাদ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যত্, পুষ্টিকর খাদ্যেই হবে আকাঙ্ক্ষিত ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী’-এর ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন থাইল্যান্ডের মাহিডল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ভিসিথ চাভাসিট। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজমা শাহীন, আইসিডিডিআরবির সিনিয়র পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. কবির ইকরামুল হক।

এর আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে কেআইবি চত্বরে তিন দিনের খাদ্য মেলা উদ্বোধন করেন। মেলায় সরকারি ও বেসরকারি ৪৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। 

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।