বুয়েটে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দেওয়ার শপথ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১১

অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে সম্মিলিতভাবে রুখে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ৯ দিন যাবত্ চলমান আন্দোলনের        আপাতত সমাপ্তিও ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে বুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এই গণশপথ অনুষ্ঠিত হয়। গণশপথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, ৮ হলের প্রাধ্যক্ষ, অনুষদ সমূহের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বুকে হাত রেখে দাঁড়িয়ে সবাই শপথ নেন। তবে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, উপাচার্য ও ৮ হলের প্রাধ্যক্ষরা শপথ নিলেও অন্য শিক্ষকরা শপথ নেননি। এর আগে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারসহ ১০ দফা দাবিতে গত ৭ অক্টোবর থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় বুধবার দুপুর সোয়া একটায়। শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিয়া রিজওয়ানা। শপথে বলা হয়, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, আজ এই মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের এক জন সদস্য হিসেবে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কল্যাণ ও নিরাপত্তার নিমিত্তে আমার ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, নৈতিক ও মানবিক সব প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় আমার জ্ঞাতসারে হওয়া প্রত্যেক অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা সোচ্চার থাকব।

এর আগে শুরুতে আবরারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপাচার্য শপথ অনুষ্ঠানে আসেন দুপুর একটা ১১ মিনিটে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ, ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক মিজানুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শপথ গ্রহণ শেষে বুয়েট প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সায়েম বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের দিকে গিয়েছে প্রশাসন। আজকে শপথের মাধ্যমে মাঠের আন্দোলন শেষ হলেও ১০ দফা দাবির বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ চলবে।’

শপথ অনুষ্ঠানের আগে প্রথমে আবরারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শপথ গ্রহণ শুরু হয়।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’