চকবাজার থানায় মামলা দায়ের

বন্ড জালিয়াতির অন্যতম হোতা দেলোয়ার গ্রেফতার

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১১

বন্ড জালিয়াতি চক্রের অন্যতম হোতা দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল বুধবার পুরান ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, তাকে ছাড়াতে চলছে অনেক বড়ো তদবির। অনেকে নানাভাবে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টা করছেন। দেলোয়ার হোসেন ইসলামপুর এলাকায় বন্ড জালিয়াতি চক্রের অন্যতম হোতা। এর আগে ইসলামপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যানুযায়ী দেলোয়ার গ্রেফতার হয়েছেন। আরো অনেককে গ্রেফতার করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ড জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে আসছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ তালিকায় আছে শতাধিক গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান। জালিয়াতিতে কারা কারা জড়িত—এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিষয়টি সরকারের হাইকমান্ডকে জানানোর পর তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চলছে। এই ইসলামপুর হলো বন্ড জালিয়াতি চক্রের প্রধান স্থান। এখান থেকে চোরাই পণ্য সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। বন্ডেড ওয়্যার হাউজের অবৈধ চোরাচালানে জড়িত অর্ধশতাধিক মাফিয়ার কাছে জিম্মি দেশীয় শিল্প খাত। শুল্কমুক্ত আমদানি-সুবিধার অপব্যবহার করে কাপড়, কাগজ, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করছে চোরাকারবারিরা। তারা প্রতি বছর    কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি চোরাচালান বাণিজ্যে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে তারা দেশীয় শিল্প ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষকে বেকারত্বে ফেলে দিয়েছে। বন্ড মাফিয়া হিসেবে চিহ্নিত একেকজন রাঘববোয়ালের ৭/৮/১০টি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বন্ড-সুবিধার আওতায় আনা কোটি কোটি টাকার পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অতীতে অর্ধশতাধিক বন্ড মাফিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জালজালিয়াতি ও বন্ড লুটপাটের অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে, দফায় দফায় অভিযানে তাদের গুদাম ও গাড়িবহর থেকে জব্দ করা হয়েছে শত শত কোটি টাকার মালামাল। কিন্তু মামলা সুরাহার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মাফিয়াদের এখন পর্যন্ত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। এসব কারণে রাজস্ব বিভাগের কঠোর নির্দেশনা, ধারাবাহিক অভিযান, মালামাল জব্দ—কোনো কিছুই বন্ড মাফিয়াদের কাছে পাত্তা পায় না। তাদের দাপটে রাজস্ব বিভাগ অসহায়। তারা এত বড়ো জালিয়াতি করে আসছে, তাদের স্পর্শ করাও কর্মকর্তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। অথচ রাজস্ব বিভাগেরই কাজ এ ধরনের মাফিয়াদের আইনের আওতায় আনা। রাজস্ব বিভাগের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে এখন বন্ড জালিয়াতি চক্রের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা নিয়মিত জালিয়াতি চক্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উেকাচ পেয়ে আসছেন। হাইকমান্ড থেকে যখন নির্দেশ আসছে, এখন বন্ড কমিশনার অফিসসহ রাজস্ব বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। বন্ড জালিয়াতি চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল দেলোয়ার হোসেনকে নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল তিন।

জানা গেছে, রাজধানীর ইসলামপুর ও নয়াবাজারে এই মাফিয়া-গডফাদারদের কারণে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এই মাফিয়াদের কারণে টেক্সটাইল, কাগজ, প্লাস্টিক, দেশীয় বিভিন্ন শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। বন্ডের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অর্ধশতাধিক লোকের কাছে জিম্মি দেশীয় শিল্প খাত। এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা হলে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিকের বেকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও পিভিসি কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বন্ডের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কারা, তা জানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। কাস্টমসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বন্ড-সংক্রান্ত অপরাধে সাড়ে চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলেও বারবার একই অপরাধে জড়িত থাকা অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানকে এ পর্যন্ত চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে অন্যান্য মামলা ও অভিযানে জব্দ হওয়া পণ্যের সূত্র ধরে মাফিয়াদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে এখনো।