কুমিল্লায় বৈধ লাইসেন্সে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা!

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৬

?কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানা সড়কের পাশে বৈধভাবে অস্ত্র ও গুলি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ‘ফয়েজ বক্স আর্মস স্টোর’। কিন্তু লাইসেন্সধারী এই প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি বিক্রি করছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডে। ঐ দোকানের মালিক আবদুল হামিদ বাবুল। তিনি বৈধ লাইসেন্সের আড়ালে অবৈধ অস্ত্র-গুলি বিক্রির জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ডে ‘ডিলার গ্রুপ’ গড়ে তুলেছেন। বাবুল গেল চার মাসে অবৈধ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই সহস্রাধিক গুলি আন্ডারওয়ার্ল্ডে সরবরাহ করেছেন। তিনটি অস্ত্র ও গুলি হাতবদলের সময় পুলিশ বাবুল ও তার দুই ডিলার শফিকুল ইসলাম বিটু ও জালাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করলে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য।

গত সোমবার রাতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিম ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এদিকে তাদের গ্রেফতারের খবর জানাজানি হলে বুধবার কুমিল্লা নগর জুড়ে বিভিন্ন মহলে বেশ তোলপাড় শুরু হয়।

জানা গেছে, ফয়েজ বক্স আর্মস স্টোরের মালিক কোতোয়ালি মডেল থানা সড়কের স্থায়ী বাসিন্দা ফয়েজ বক্স। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছোটো ছেলে আবদুল হামিদ বাবুল ২০০৬ সাল থেকে নিজের নামে লাইসেন্স নিয়ে বৈধ অস্ত্রের ব্যবসা শুরু করেন। বাবুলের পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে বাবুলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার পরিবারের লোকজন জানতে পারে, বাবুলসহ তিন জনকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, ‘সোমবার রাতে ঢাকার গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারের পাশে অবৈধ অস্ত্র হাতবদলের খবর পেয়ে তাদের একটি দল ঐ এলাকা থেকে ঐ তিন জনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ওয়ান শুটারগান ও একটি দোনালা বন্দুক এবং ৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে পারভেজ আহমেদ চৌধুরী, জয়নাল ও আউয়াল নামে       আরো তিন জন পালিয়ে গেছেন। পরে পলাতক তিন আসামিসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে।

এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে বৈধ লাইসেন্সকে পুঁজি করে অবৈধভাবে অস্ত্র ও গুলির ব্যবসা করে আসছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও গুলি হাতবদলের সময় এই চক্র সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে থাকে। এরা আগ্নেয়াস্ত্রকে ‘গাছ’ এবং গুলিকে ‘খাবার’ বলে চিহ্নিত করে।