এনএসআইয়ের সাবেক ডিজি ওয়াহিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৩২

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রেখেছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. শাহিনূর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নির্যাতন, হত্যা ও গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামির বিরুদ্ধে।

২০১৬ সালে ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল গুলশানের বারিধারার বাসা থেকে ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে কারাগারে পাঠায় ট্রাইব্যুনাল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন ওয়াহিদুল হক। ১৯৭১ সলের মার্চ মাসে আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিকামী হাজার হাজার বেসামরিক জনগণ রংপুর সেনানিবাসের দক্ষিণে কোতোয়ালি থানা এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয়। তখন ওয়াহিদুল হক রংপুর ক্যান্টনমেন্টের ২৯ ক্যাভালরি (অশ্বারোহী) রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন ছিলেন। তার নেতৃত্বে সশস্ত্র সেনাবাহিনী সেদিন মেশিনগান দিয়ে মুক্তিকামী মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ বেসামরিক লোককে হত্যা করে। সেদিন যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের কয়েক জনকে পরে ফাঁসি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গিয়ে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে দুই বছর পর তিনি পুলিশে যোগ দেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় দায়িত্ব পান। পরে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হন।

গতকাল ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে দোষী, না নির্দোষ—তা জানতে চায়। নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন আসামি। পরে ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। প্রসিকিউশন পক্ষে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সিমন, রেজিয়া সুলতানা চমন এবং আসামির পক্ষে আইনজীবী মিজানুর রহমান ও আব্দুস সোবহান তরফদার শুনানি করেন।