শৈশব-কৈশোর বয়সটা সব মানুষের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটতে থাকে, নতুন নতুন বন্ধু তৈরি হতে থাকে। সমবয়সী তরুণ-তরুণদের সাথে পড়াশুনা, খেলাধুলা, মারামারি আর খুনসুটি করে কেটে যায় শৈশব-কৈশোর। কিন্তু ব্রাজিলের ১২ বছরের কিশোর টিয়াগোর জীবনটা অন্য আট-দশ জনের থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। খেলার সাথী হিসেবে টিয়েগো পেয়েছে জাগুয়ারদের। বাবা লিয়ান্দ্রো সিলভিয়েরা এবং মা আনা জাকোমো দুই জনেই বিজ্ঞানী, কাজ করেন ব্রাজিলের জাগুয়ার ইনস্টিটিউটে। আমেরিকার বাঘ, চিতাবাঘ, জাগুয়ার জাতীয় বন্যপ্রাণিদের নিয়ে গবেষণা করার পাশাপাশি এদের সংরক্ষণের জন্য কাজ করেন। সেই সুবাদে জাগুয়ার ইনস্টিটিউটের জাগুয়ারদের সঙ্গে খেলাধুলা করেই বড় হয়েছে টিয়াগো। পড়াশুনার বাইরে অবসর সময়ের বেশিরভাগই তার কাটে সেই জাগুয়ারদের সঙ্গে।
একটি হ্রদে জাগুয়ারদের সঙ্গে টিয়াগোর খেলা করার মুহূর্তের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন তার বাবা লিয়ান্দ্রো সিলভিয়েরা। ছেলের এমন অদ্ভুত স্বভাব সম্পর্কে তার বক্তব্য, জাগুয়াররা টিয়াগোর দৈনন্দিন জীবনের অংশ, ওর জীবনে এটি অস্বাভাবিক কিছু না। আমাদের ছেলে এমন একটা পরিবেশে জন্মেছে যেখানে শিশু বয়স থেকে সে জাগুয়ারদের সঙ্গে বড় হয়েছে। জাগুয়ারদের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে চলতে হয় সেটাও সহজাতভাবেই শিখেছে। আমরা অবশ্যই ওকে সব কিছু করতে দেই না। কিন্তু ও নিজেও জানে কী করা উচিত আর কী করা উচিত না।
টিয়াগোর যখন জন্ম তখন তার বাবা মা তিনটি জাগুয়ার ছানাকে বড় করেছিলেন। বেড়াতে বের হলে পথে তারা থামতেন চারটি বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য (টিয়াগো আর জাগুয়ার ছানারা)। ট্রাক নিয়ে বেড়াতে বের হতেন সিলভিয়েরা পরিবার।
জন্তু জানোয়ারদের সঙ্গে মেলামেশায় ঠিক কোথায় সীমারেখা টানতে হবে তা টিয়াগোকে শিখিয়েছে তার বাবা-মা। টিয়াগোর মা বলেন, আমার ছেলে আর জাগুয়ারদের নিয়ে কখনো বিপদে পড়তে হয়নি। ছেলেকে কখনো জাগুয়ারদের সঙ্গে একা ছেড়ে দেইনি। আমরা সব সময় জাগুয়ার এবং অন্যান্য সব জন্তুদের বিষয়ে সতর্কতা নিয়েছি। নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই কড়া নিয়ম-কানুন মেনে চলি।
নিজের এমন স্বভাব সম্পর্কে টিয়াগোর সরল মন্তব্য, আমাদের এটা ভালাবাসা আর সম্মানের একটি সম্পর্ক। জন্তু-জানোয়ারদের দেখাশোনার কাজে সব সময় আমি বাবা-মাকে সাহায্য করেছি। ওদের সঙ্গ আমার খুব ভালো লাগে।-বিবিসি
