চট্টগ্রামে উত্সাহ ও আতঙ্ক নিয়ে চলছে প্রচারণা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৯

চট্টগ্রামে ভোটের মাঠ সরব হয়ে উঠেছে। অলি-গলি পাড়া-মহল্লা মেতে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণায়। উত্সাহ ও আতঙ্ক নিয়ে চলছে প্রচারণা। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে এবং বিএনপি সরকারের দুর্নীতিসহ নেতিবাচক কর্মকাণ্ডকে প্রধান্য দিচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি প্রার্থীরা কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন করছে। পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা অফিস করা হচ্ছে। এ সব অফিসে মাইক দিয়ে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চলছে। গতকাল বুধবার প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে সরব ছিল চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার নির্বাচনী এলাকা। গত দুদিনে নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সমানে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। কেউ অটোরিক্সায় মাইক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রার্থীরা কর্মী সমর্থকদের নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে আবার প্রার্থীর সমর্থনে দলীয় লোকজন আলাদাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো নির্বাচন নিয়ে তেমন উত্সাহ দেখা যাচ্ছে না। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্বাচনী পরিবেশ কি ধরনের থাকে তা বোঝার চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষ।

চট্টগ্রাম-২ আসন (ফটিকছড়ি) এলাকায় মহাজোটের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ আসনে মহাজোট থেকে তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পেয়ারুল ইসলাম। এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেকেই আহত হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী। ২০ দলীয় জোটগতভাবে আসনটি বিএনপিকে ছেড়ে দেয়া হলেও জামায়াত প্রার্থী অনড় রয়েছে। এ ব্যাপারে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে প্রার্থী হয়েছি। আমি উপজেলা জামায়াতের আমীর। ফলে প্রার্থিতার ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ আসনের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, আমাকে জোটের একমাত্র প্রার্থী করা হয়েছে। জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হয়ে থাকলে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এতে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি প্রার্থী। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন ২০ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু দলগতভাবে এলাকায় কল্যাণ পার্টির অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। এখানে কল্যাণ পার্টির প্রার্থীকে বিএনপিসহ শরীক দলের নেতাকর্মীদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এখানে বিএনপির শক্তিশালী একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ফলে কল্যাণ পার্টির প্রার্থী এখনো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারেননি। জোটের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন জোটের প্রার্থী। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা এখনো প্রচারণা শুরু করতে পারেনি। তাদের প্রার্থীও বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

এ দিকে চট্টগ্রামে প্রেসপাড়া আন্দরকিল্লায় ব্যবসায়ীরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দিনে-রাতে ব্যস্ত নির্বাচনী পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ইত্যাদি ছাপানোর কাজে।