পিতা ও পিতৃব্য আর খুল্লতাত স্বজনেরা মিলে
শিশুকে ঝোলায় গাছে, হত্যা করে কাপালিক সেজে
শিশুকে জঙ্গলে নিয়ে, কিংবা ঘরে যূপকাষ্ঠ গোপনে সাজিয়ে,
হিংস্র নখরে গেঁথে, টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে
একে একে লিঙ্গ কাটে, কাটে কান, ছুরি মারে পেটে
ছিটকে পড়ে তপ্ত লোহু!
মুহর্মুহু উেক্ষপে লালে-লাল লোহুর ফোয়ারা
সিদরাতুল মুনতাহা অবধি ছুটে যায়!
ও মাগো! ও মাগো! বলে আরশ ফাটিয়ে শিশু কাঁদে
সে কাঁদন, সেই আর্তনাদে
কাঠামো কি ভেঙে পড়ে,
গরিমা কি খসে পড়ে,
ঈশ্বরের কল্প প্রাসাদের?
হে ঈশ্বর, হে জিহোভা, যিশু, তথাগত
এক নিমেষে তোমরা কেন পূর্ণিমা-ধবল রাতটিকে
ক্রূরতম, গাঢ়তম করে দিলে প্রেতিনীর চোখের কাজলে?
জেনে রেখো,
ফুরাবে না শিশুটির আকুল ক্রন্দন
বহুকাল ঘুরবে বাতাসে!
ফিরে আসবে শিশু—জেনো—জোম্বি হয়ে, অশরীরী হয়ে;
প্রত্যেকটি নির্বিকার মানুষের ব্যয়বহুল ঘুম কেড়ে নেবে!
বহুশীর্ষ নাগ এসে প্রতিরাতে স্বপ্নে হানা দেবে।
এ-আপাত সুখ ঠেলে উঁকি দেবে দুঃখের প্রকাণ্ড দৈত্য;
একটি অদৃশ্য হাত একটানে খুলবে মুখোশ
আর, প্রকৃত প্রস্তাবে, পুঞ্জীভূত পাপে
ঢেউমত্ত সমুদ্রের অত্যাসন্ন সুনামির তলে
দুষ্টক্রীড় মানুষের অভিশপ্ত এই রাজ্যপাট
ডুবে যাবে;—অত্যন্ত করাল জলে অবলুপ্ত হবে
আর জেনো
মগ্ন এই, ধস্ত এই জলধিমহল থেকে,
গর্ভিনীর উদ্গত বমির মতন,
অনেক শতাব্দী পরে উঠে আসবে
হিংসা-গাঢ় সময়ের রাশিরাশি স্মৃতি ও বুদ্বুদ!
