‘ট্রাম্পের চিঠি ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেন’এরদোয়ান

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লেখা চিঠি ‘ডাস্টবিনে’ ফেলে দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। বিবিসিকে এমন কথাই বলেছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ।

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ৯ অক্টোবরের তারিখ দেওয়া একটি চিঠিতে ট্রাম্প এরদোয়ানকে বলেন: ‘কঠিন ব্যক্তি হবেন না। বোকা হবেন না।’  ট্রাম্প আরো লিখেন, ‘আসুন, একটি ভালো চুক্তির জন্য কাজ করি। আপনি হাজার হাজার লোককে হত্যার জন্য দায়ী হতে চাইবেন না এবং আমি তুর্কি অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য দায়ী হতে চাই না।’ চিঠিতে এরদোয়ানকে উদ্দেশ্য করে আরো বলা হয়, ‘আপনি যদি এটা সঠিক ও মানবিকভাবে করেন তাহলে ইতিহাস আপনার পক্ষে যাবে। যদি ভালো কিছু না হয়, তাহলে এটি আপনাকে শয়তান হিসেবে দেখাবে।’

তুর্কি প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, এরদোয়ান চিঠিটি পেয়েছিলেন এবং তিনি এটি ‘সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেন। চিঠিটি পাওয়ার একদিন পরই তুরস্ক সিরীয় সীমান্ত অতিক্রম করে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ওপর অভিযান শুরু করে।

গত ৬ অক্টোবর এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলে ট্রাম্প সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তুরস্ককে কুর্দিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে। যদিও বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের সবুজ সংকেত দেইনি। কেউ যদি চিঠিটা পড়ে থাকেন, তবে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। তার সঙ্গে আলোচনার পরই আমি এই চিঠিটি লিখি।’

৮ অক্টোবর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সকে (এসডিএফ) লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তুর্কি সেনারা। তুর্কি-সিরীয় সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ‘নিরাপদ এলাকা’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে তুরস্কে সেখানে সিরিয়ার শরণার্থীদের বড়ো একটি অংশকে পুনর্বাসনের কথা বলছে। তবে শরণার্থীদের অনেকেই কুর্দি না হওয়ায় তুরস্কের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কুর্দিরা জাতিগত নিধনের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।