ব্যবসায়ে শিক্ষিত নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৩

নারীর শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোক্তা হওয়া তথা ব্যবসায়ে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ে আসার ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাও কমেছে। ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণে নারী উদ্যোক্তারা বিশেষ সহায়তা পাচ্ছেন এবং তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে তারা অনেক এগিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদ (বিআইডিএস) এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমই ফাউন্ডেশন) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০০৯ সালে স্নাতক পর্যায়ের নারীর ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত হওয়ার হার ২০ শতাংশ হলেও ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশে। আলোচ্য সময়ে নারীকে ব্যবসায়ে আসার ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে নিরুত্সাহিত করার হারও কমেছে। ২০০৯ সালে ৪২ শতাংশ নারীকে ব্যবসায়ে আসার ক্ষেত্রে পরিবার থেকে নিরুত্সাহিত করা হলেও ২০১৭ সালে এসে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ নারীকে। ২০০৯ সালে ২৮ শতাংশ নারীকে ব্যবসায়ে আসার ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হতো। ২০১৭ সালে এসে এই প্রতিবন্ধকতা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ শতাংশে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ঐ প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিআইডিএসের সিনিয়র সিরার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন কে এম হাবিব উল্লাহ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক অগ্রগতি অব্যাহত রেখে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এ লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হবার পেছনে অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি রূপান্তরিত নারীর (তৃতীয় লিঙ্গ) জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়িয়ে তাদেরকে সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে তারা বিশদ গবেষণা চালিয়ে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পেছনে প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে এর প্রতিকারে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দেন তারা।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা আয়কর দিতেন, যা ২০১৭ সালে ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৯ সালে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা ব্যবসার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করতেন, যা ২০১৭ সালের বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের নারী জনগোষ্ঠী তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের নারীরা বিভিন্ন পেশায় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে করে আগামী ১০ বছর পর নারীকে আলাদা করে দেখার কোনো প্রয়োজন হবে না। দেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে মানসম্পন্ন পণ্য উত্পাদনের জন্য নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের বড়ো ধরনের গবেষণা চালালে শিল্প মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে জানান তিনি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম, জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও নারী উদ্যোক্তা ইসমত জেরিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ডিভিশনের কর্মকর্তা লীলা রশিদ, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মাসুমা বেগম, পাট পণ্য রপ্তানিকারক কোহিনুর ইয়াসমিন, সাংবাদিক সালাম জোবায়ের, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলশান নাসরিন চৌধুরী, রূপান্তরিত নারী (তৃতীয় লিঙ্গ) আফরোজা বেগম মৌরি প্রমুখ।