বিআইডব্লিউটিএতে নারী প্রকৌশলীকে মারধর

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৪৫

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক নারী প্রকৌশলীকে দুই ঠিকাদার মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে সংস্থার নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল (এমএমই) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নেছার উদ্দিন খানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার কর্মকর্তা একই বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরিনা খানম। দুই ঠিকাদার ঐ নারী কর্মকর্তাকে চড় ও থাপ্পড় মেরে মেঝেতে শুইয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে ঐ দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়েছে। তারা হলেন—রাকিবুল ইসলাম ও সাগর। আর নারী সহকর্মীকে মারধরে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নেছার উদ্দিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঘটনা তদন্তের জন্য সংস্থার পরিচালক (নিরীক্ষা) সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিআইডব্লিউটিএর সচিব মো. ওয়াকিল নেওয়াজ বলেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কক্ষে ঠিকাদাররা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এ ঘটনায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানান, গতকাল বিকালে যান্ত্রিক ও নৌ-প্রকৌশল বিভাগের টেন্ডার কার্যক্রমের বিষয়ে বিকালে অতিরিক্ত প্রকৌশলী নেছার উদ্দিন খান স্থানীয় কাউন্সিলর ও বিআইডব্লিটিএর টেন্ডার নিয়ন্ত্রক মমিনুল হক সাঈদের আস্থাভাজন ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ও সাগরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ঐ দুজন বিআইডব্লিটিএতে ঠিকাদারি কাজ করেন। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরিনা খানমকে তার কক্ষে ডেকে জানতে চান, তাদের ফাইল কেন আটকিয়ে রাখা হয়েছে। জবাবে জরিনা জানান, ফাইলের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দেখে তারপর ছাড়া হবে। এ নিয়ে দুই প্রকৌশলীর মধ্যে বচসার এক পর্যায়ে জরিনাকে ধমক দেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা রাকিব উত্তেজিত হয়ে জরিনাকে চড়-থাপ্পড় মারতে মারতে মেঝেতে শুইয়ে ফেলেন। তখন সাগরও জরিনাকে মারপিট করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এক পর্যায়ে জরিনা খানমের চিত্কারে পাশের কক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটে আসলে রাকিব ও সাগর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

বিআইডব্লিটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তত্ত্ব্বাবধাক প্রকৌশলী নারী কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার কক্ষেই ছাত্রলীগ নেতা ও বিআইডব্লিটিএর ঠিকাদার রাকিব প্রধান প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করেছেন। অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি তদন্ত করছেন বিআইডব্লিটিএ। সিসি ক্যামেরা ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পরিচালক (হিসাব) আবদুল আউয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।