বর্বরোচিত ভাবে পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে হত্যার ঘটনায় শোকে স্তব্ধ আর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা। খুনিদের পাশবিকতা হার মানিয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে। খুনিদের ধিক্কার জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করছেন অনেকেই। খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন কাজাউড়া গ্রামে তুহিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া তুহিনের চাচা নাছিরের ঘরে তালা ঝুলছে। নিহত তুহিনদের ঘরের দরজা খোলা থাকলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পাশের ঘরে চাচা আব্দুল মোছাব্বিরের (ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার) ঘরে রয়েছেন তার সদ্য সন্তান প্রসবকরা স্ত্রী জরিনা বেগম ও মা। তুহিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের লোকজন জড়িত জরিনা বেগম বিশ্বাস করেন না। নিহত তুহিনের মামা নুরুজ্জামানের মোবাইলে ফোন দিয়ে তুহিনের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, তিনি অসুস্থ, কথা বলতে পারছেন না।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাজাউড়া গ্রামের বিরোধ দীর্ঘ দিনের। এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার মিয়া, অপরপক্ষে নিহত তুহিনের স্বজনরা। গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও সরকারি ডোবা লিজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যা মামলাসহ ১০-১২টি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার রাতে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কাজাউড়া গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে তুহিন মিয়াকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গলা কেটে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ঐদিনই তুহিনের পিতা আব্দুল বাছিরসহ চার চাচা, এক চাচি, চাচাতো বোন ও চাচাতো ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। রাতে তুহিনের মা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা করেন। পরদিন তুহিনের চাচা নাছির ও চাচাতো ভাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করার পর বাবা আব্দুল বাছির, চাচা জমসেদ মিয়া ও আব্দুল মোছাব্বির মিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। বর্তমানে তারা রিমান্ডে দিরাই থানায় রয়েছে।
