অমিত ও তানভীর ফের রিমান্ডে

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০১:০০

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার অমিত সাহা ও তাবাখখারুল ইসলাম তানভীরকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাদের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই মামলায় গ্রেফতার তোহাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বুয়েটের ছাত্র ও ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা ও ছাত্রলীগের সদস্য তানভীরকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। মহানগর হাকিম আবু সাঈদ শুনানি শেষে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অমিত সাহাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে বিকেলে আদালতে হাজির করে আবারও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। অন্যদিকে তানভীরকে কারাগার থেকে দুপুরের আগে আদালতে হাজির করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লে­খ করেন, অমিত ও তানভীর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও তাদের নাম এসেছে। তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা প্রয়োজন। এর আগে গত ১১ অক্টোবর অমিতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গতকাল তাকে রিমান্ডে দ্বিতীয়বারের জন্য নেওয়া হলো। অন্যদিকে গত ৮ অক্টোবর তানভীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত ১৩ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ১৫ অক্টোবর আবার তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত গতকাল শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলেছে। কারণ এ হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগ আসামি গ্রেফতার হয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। জবানবন্দিতে এখন পর্যন্ত ঘুরে ফিরে যাদের নাম এসেছে তাদেরকে চার্জশিটভুক্ত করা হবে। এছাড়া মামলার আলামত, তদন্ত, ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন সাক্ষীদের বক্তব্য ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে যাদের নাম পাওয়া যাবে তারাও চার্জশিটভুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে ২৪ থেকে ২৫ জন বুয়েট ছাত্রকে চার্জশিটভুক্ত করে আগামী নভেম্বরের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তোহা কারাগারে :এদিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে মোহাম্মদ তোহাকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তাকেও গত ১১ অক্টোবর পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারনামীয় ১৯ আসামির মধ্যে ১৬ জন এবং আরো পাঁচজন মোট ২১ জনকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তারা হলেন—বুয়েটের ছাত্র ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, অনিক সরকার, মো. মোজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন ও মনিরুজ্জামান মনির। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

মামলার তদন্ত সংশ্লি­ষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আবরার হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় তিন আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি। তারা হলো—জিসান, মোর্শেদ ও তানিম।