নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে

মোটরসাইকেলের তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৪৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে মোটরসাইকেলের তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। মোটরসাইকেলের মালিকের নাম, তার মোবাইল ফোন নম্বর ও গাড়ির নম্বর নেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে চালকদের ছবিও তুলে রাখা হচ্ছে। নির্বাচনে সহিংসতায় মোটরসাইকেল ব্যবহার হলে, সংগৃহীত তথ্য দিয়ে ঘটনা তদন্তে সহায়তা করার জন্য পুলিশ এ উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ রোর্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী সারাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। এর মধ্যে ঢাকায় নিবন্ধিত ৫ লাখ। এর বাইরে নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল রয়েছে প্রায় ৪ লাখ।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বাইরে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টরা তথ্য সংগ্রহ করেন।

গতকাল মত্স্য ভবন মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মোটরসাইকেলের চালকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তল্লাশি করা হয় মোটরসাইকেলের চালকের সকল কাগজপত্র। এ সময় একজন পুলিশ সদস্য নির্দিষ্ট একটি কাগজে চালকের নাম, তার মোবাইল ফোন নম্বর এবং গাড়ির নম্বরটি লিখে রাখেন। এছাড়া মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্কর, আগারগাঁও ক্রসিং, কাকলী ক্রসিং, আড়ং ক্রসিং, রাসেল স্কয়ার, ফকিরাপুল, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা টিভি ব্রিজ, টিকাটুলী, কমলাপুরসহ প্রায় অর্ধশত স্থানে মোটরসাইকেল চালকদের কাগজপত্র তল্লাশি করা হয়। তাদের তথ্যও লিপিবদ্ধ করা হয়।

মত্স্য ভবন মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তথ্য দেওয়া মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি অ্যাপসভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। দুপুর ৩টার দিকে মত্স্য ভবন মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে মোটরসাইকেল থামানোর নির্দেশ দেয়। আদালত তার কাগজপত্র তল্লাশি করার পর একজন পুলিশ সদস্য তার নাম পরিচয় জানতে চান। তার নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখে নেন ওই পুলিশ সদস্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনে প্রচারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় মোটরসাইকেল। প্রচারণায় প্রতিটি মিছিলেই কম-বেশিসংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহার হয়। আবার ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোটারদের আনা নেওয়ার জন্যও মোটরসাইকেল ব্যবহার হয়। অনেক সময় নির্বাচনী প্রচারের সময় সহিংস ঘটনা ঘটার সময় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।

পুলিশ সদর দফতরের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন উপলক্ষে নয়, মোটরসাইকেলে ছিনতাই ও অন্য সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে চালকদের নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য অপরাধীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।