আরিফুর রহমান
এটুআই ও বিবিএসের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত বিবিএস অডিটোরিয়ামে বৈশ্বিক সূচক বিষয়ক কনসালটেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বৈশ্বিক সূচকভিত্তিক অগ্রগতির জন্য নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করে দেশের উন্নয়নকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বৈশ্বিক সূচকের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের রোডম্যাপ বিশ্লেষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সূচকের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা প্রদান, বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতির জন্য সুপারিশমালা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) মো. আবুল কালাম আজাদ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি সম্মানিত অতিথি হিসেবে কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেন, ‘দেশের অনেক অর্জন সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে তুলে না ধরার কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকসমূহে বাংলাদেশের অবস্থান যথাযথভাবে সবসময় প্রতিফলিত হয় না। জাতীয় উপাত্ত সমন্বয় কমিটি এসডিজিসহ সকল আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে সঠিক, মানসম্পন্ন এবং হালনাগাদ উপাত্ত সরবরাহের বিষয়টি সমন্বয় করছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে আমাদের সাফল্য আছে অনেক। সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে আমাদের সেগুলো তুলে ধরতে হবে। আন্তর্জাতিক সূচকে অনেক জায়গায় আমাদের অবস্থান উন্নত হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) মো. আবুল কালাম আজাদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সঠিকভাবে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্স ভালো। বৈশ্বিক সূচকে উন্নতি করতে গেলে আমাদের রিপোর্টটা সঠিক ও নিখুঁতভাবে তুলে রাখতে হবে।’
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, ‘আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বিশ্বের সব দেশ এখন একে অন্যের সঙ্গে বেশি কানেক্টেড। আর সেটা সম্ভব হয়েছে এসডিজির কারণে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ব্যাপারে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে এগিয়ে এসেছে।’
উল্লেখ্য, ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে ২০১২ সালে ১৫০তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ ২০১৮ সালে ১১৫তম স্থানে উঠে আসে। ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন্ডেক্সে উন্নতির পর বৈশ্বিক সূচকের বিষয়টি বাংলাদেশের তথ্য সমন্বয়কারী ন্যাশনাল ডাটা কোঅর্ডিনেশন কমিউনিটি (এনডিসিসি)-এর আলোচ্য সূচিতে উত্থাপিত হয়েছে। বৈশ্বিক সূচক বিশ্লেষণ করে এনডিসিসির কারিগরি কমিটি বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়নের জন্য ২৩টি সূচকের কথা প্রস্তাব করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ ও ইউএনডিপি পরিচালিত এটুআই এই ২৩টি সূচক নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। বৈশ্বিক সূচক নির্দিষ্ট করে বোঝার জন্য ২৩টি সূচককে ICT; Government, peace and Law; Finance, Trade and Industrialization; Climate and Environment; Education, skills and Research; Health, Water and Sanitation; Poverty, Hunger and Equality এই সাতটি থিমেটিক এরিয়ায় ভাগ করা হয়েছে। কারিগরি কমিটি এই পর্যালোচনাগুলো অনুমোদন করেছে এবং প্রতিটি বৈশ্বিক সূচকের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদান করার কথা প্রস্তাব করেছে।
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/ বিভাগ/অধিদপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
