নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে মাছ শিকার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৫

ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি

‡jvদশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

দশমিনার তেঁতুলিয়া নদীতে সরকারি নিষেধ উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকার করছে উপজেলার জেলেরা। অবরোধের ২২ দিন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার ভুক্তভোগী জেলেরা।

ইলিশের প্রজনন মৌসুম নিরাপদ করতে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ শিকার, বহন, আহরণ ও মজুত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় সারাদেশের মতো এ উপজেলার জেলেদের বিরত থাকার জন্য ভিজিএফ সহায়তায় মাথাপিছু ২০ কেজি চাল দেওয়া হয়।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের শাহআলম খাঁ, ঢনঢনিয়া গ্রামের লাল মিয়াসহ একাধিক জেলে জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে তারা ঋণ নেন। ঋণের টাকা দিয়ে জাল ও নৌকা তৈরি করেছেন। মাছ বিক্রি করে ঐ ঋণের টাকা পরিশোধ করা হয়। অবরোধের সময় জেলেরা বেকার থাকেন।

দক্ষিণ দাসপাড়া গ্রামের জেলে জাকির বলেন, সময়মতো কিস্তি দিতে না পারলে আর ঋণ পাব না। সুদ ও কিস্তির কারণে সংসারে অশান্তি লেগে আছে। কাজেই অনিচ্ছায় হলেও বিকল্প কোনো পথ না থাকায় সরকারি আইন উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ শিকারে নামেন। আর সেই মাছ বিক্রি করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন আকন বলেন, অবরোধের ২২ দিন জেলেদের ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ আদায় বন্ধ রাখা উচিত। এ সময় জেলেরা যাতে অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়ে মাছ শিকারে না নামেন সেদিকে সবার নজর রাখা উচিত।

এদিকে স্থানীয় এনজিও সমন্বয়কারী পিএম বাদল বলেন, যদি কেউ স্বেচ্ছায় ঋণের কিস্তি দেয় তারটাই নেওয়া হবে। কারো সমস্যা হলে এ সময়ে কিস্তি বন্ধ রাখা হবে।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মাহাবুব আলম ঝান্টা জানান, ব্যাংক ও এনজিও থেকে জেলেদের নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের বিষয় তাদের কোনো হাত নেই। তবে মানবিক কারণে অবরোধের সময় ঋণের কিস্তি আদায় শিথিলযোগ্য করা হলে জেলেরা খুব উপকৃত হবেন।