কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না ইসি:বিএনপি

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৪৬

পুলিশি হয়রানি বন্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর নেতাকর্মীদের গ্রেফতার-হয়রানি এবং হামলার বিষয়ে সিইসির কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন বিএনপির ওই প্রতিনিধি দল। লিখিত অভিযোগে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশি হয়রানি ও ক্ষমতাসীন দলের হামলার শিকার নেতাকর্মীদের তালিকা যুক্ত করেছে দলটি।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ১০ তারিখ থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রচারণার পর পরই আমাদের মহাসচিবের গাড়ি বহরে আক্রমণ করা হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের প্রচারণায় বার বার হামলা করা হচ্ছে। মঈন খানের এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ও যুবলীগ মিলে এই হামলা করছে। যারা জামিনে আছেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আটক নেতাকর্মীদের জামিন দেয়া হচ্ছে না। বুধবার সকালে ভাটারা থানার একজন কর্মীকে পুলিশ ধাওয়া করলে ছাদের ওপর থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। নাটোরে জামিনে থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নেতা দুলুকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তারা চাইছে আমরা যেন নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে না পারি, নির্বাচন যেন না করতে পারি। তারা একতরফাভাবে নির্বাচন করতে পারে।

তিনি জানান, সিইসি আমাদের বলেন-আমি চেষ্টা করছি। কিন্তু পুলিশ বলছে আগে থেকে যাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে তাদের আমরা ধরছি। পুলিশ বলছে তাদের নামে সুনির্দিষ্ট কেস আছে। সিইসি বলছেন, সেই সুনির্দিষ্ট কেস কি সেটা আমি কি করে জানব। আমি চেষ্টা করছি, আমি চেষ্টা করব। এ প্রসঙ্গে সেলিমা রহমান আরো বলেন, আমরা মনে করি তিনি (সিইসি) অসহায়। তিনি বিব্রত বোধ করছেন এটা সত্যি। কারণ তিনি কিছুই করতে পারছেন না। তবুও আমরা আশা রাখি সিইসি যেহেতু এবার একটি সুযোগ পেয়েছেন, তিনি যদি সঠিকভাবে পদক্ষেপ নেন তাহলে কিন্তু আমরা এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে প্রমাণ করতে পারব। বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, আব্দুল কাইয়ুম, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন।

অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে আটক

এদিকে, ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুস সালাম নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ধরপাকড়ের অভিযোগ দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পরই তার সঙ্গে আসা কর্মীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলে তিনি ইসিতে ফের অভিযোগ দিয়েছেন। আব্দুস সালাম মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সভাপতি ওসমান গণি শাজাহানকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে ধরপাকড়ের অভিযোগ দিয়ে বের হয়ে যান। আধাঘণ্টা পরে আবার ফেরত এলে সাংবাদিকরা কারণ জানতে চান। তখন তিনি বলেন, ইসি থেকে বেরিয়ে পথে শাহজাহানকে নামিয়ে দিই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সামনে যখন যাই, তখন ফোন আসে সাদাপোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন শাহজাহানকে ধরে নিয়ে গেছে। এ সময় তিনি বারবার বলতে থাকেন-এভাবে ক্যামনে নির্বাচন করবে।

কাজি ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে ববির নালিশ

জাতীয় পার্টি-জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নালিশ জানিয়েছে ঢাকা-৬ আসনের মুসলিম লীগের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। গতকাল বুধবার কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তিনি এ অভিযোগ করেন।