স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, রাজশাহীর চারঘাটে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ গুলিবিনিময় ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। এ ঘটনায় বিজিবি এবং বিএসএফবাহিনী প্রধান পর্যায়ে আলোচনা চলছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে একটা চমত্কার সম্পর্ক রয়েছে। হঠাত্ করে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আমরা সবাই মর্মাহত। আলোচনা চলছে। দুই দেশের আলাপের মাধ্যমে এটা সুরাহা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কুমিল্লা সীমান্তে র্যাব টহল দিতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে যায়। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভারতের সঙ্গে আমাদের চমত্কার সম্পর্ক। আমরা বসেই সন্তোষজনক সমাধান করব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদ্মায় ভারতীয় জেলেদের ইলিশ ধরা নিয়ে জটিলতার পর যে বিএসএফ সদস্যরা এসেছিল, তারা পতাকা বৈঠকের অপেক্ষা না করে চলে যাওয়ার সময় ‘উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির’ ঐ ঘটনা ঘটে এবং তাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক জন সদস্য নিহত হন।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশের ভেতরে চারঘাট থানার শাহরিয়ার খাল এলাকায় ঢুকে তিন ভারতীয় জেলে মাছ ধরছিল। মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সেখানে এক জন মত্স্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিজিবির অভিযান চলছিল। ঐ সময় এক ভারতীয় জেলে বিজিবির হাতে আটক হলে বিএসএফের চার সদস্য ‘অনুমতি ছাড়াই’ শূন্য রেখা পেরিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসেন। তখন বিজিবি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় জেলেকে হস্তান্তরের কথা বললে বিএসএফ তাকে ‘ছিনিয়ে নেওয়ার’ চেষ্টা করে এবং গোলাগুলির সূত্রপাত হয়।
বিএসএফের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বিজিবি সদস্যদের গুলিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং নিহত এবং আরো এক জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রশীদ আসকারী, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত্ ঘোষ, শহিদ কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী প্রমুখ।
