বরিশালে পিডিবির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে মোটর মেকানিকদের বিক্ষোভ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:২৭

বরিশালে পিডিবি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের ক্ষমতা অপব্যবহারের প্রতিবাদে ওয়ার্কশপ ও গ্যারেজ মালিক শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে। এতে করে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে বরিশালের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। বরিশালে বন্ধ রয়েছে গাড়ি মেরামতের কাজ। জানা গেছে, বরিশালের দেড়শতাধিক ওয়ার্কশপ ও গ্যারেজে এই ধর্মঘট চলছে।

বরিশাল নথুল্লাবাদের বেশ কয়েকজন বাস মালিক জানান, ওয়ার্কশপ বন্ধ থাকায় বাস মেরামত সম্ভব হচ্ছে না। কাজ পুরো বন্ধ হয়ে রয়েছে, এতে করে বেশ সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে আমাদের। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে বরিশাল বিদ্যুত্ বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের অপসারণের দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে মোটরযান মেকানিক ইউনিয়নের সদস্যরা। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সিটি মেয়র, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৩ দিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন মোটরযান মেকানিক ইউনিয়নের সদস্যরা। এসব কর্মসূচি পালনকালে বরিশাল মোটরযান মেকানিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী বলেন, বিদ্যুত্ বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের গাড়ি মেরামতে অপারগতা প্রকাশ করায় বলাকা ওয়ার্কশপের বিদ্যুতের লাইন কেটে তারসহ মিটার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিচারকের দায়িত্ব পালন করা একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সামান্য বিষয় নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন এই ধরনের দৃষ্টান্ত খুব একটা শোনা যায় না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের অপসারণ ও বিদ্যুত্ সংযোগ পুনরায় স্থাপন না করা হলে ৩ দিনের কর্মবিরতি এরপর তারা দেশব্যাপী কর্মবিরতিতে যাবেন। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মোটরযান মেকানিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. শেখ জামাল হোসেন, সহ-সভাপতি মো. কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল আসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন প্রমুখ।

প্রসঙ্গতঃ পটুয়াখালীতে পিডিবি’র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের গাড়ি বিকল হওয়ায় বরিশালের মোটরযান মেকানিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্মল চন্দ্র দাসকে ফোন করে সেখানে লোক পাঠাতে বলেন। বরিশাল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী ও পূজার কারণে মিস্ত্রী সংকট থাকায় অন্য কোথাও থেকে মিস্ত্রির ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানান নির্মল চন্দ্র। এরপর তার গ্যারেজের বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুত্ বিভাগ। এ সময় জানতে চাইলে তারা নির্মল চন্দ্রকে ম্যাজিস্ট্রেট এর সাথে দেখা করতে বলেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে আন্দোলনে নামে ইউনিয়ন।