তিন বছর আগে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতাল-বাঙালিরা আবারও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের সেই জমি দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সাঁওতালদের বিরোধ চরমে উঠেছে। যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাঁওতাল নেতা ফিলিমন বাস্কে বলেছেন, তাদের সমস্যা নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন। এই প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে তারা বিরোধপূর্ণ চিনিকলের জায়গা থেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে রাজি আছেন।
রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষের দাবি, সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় চিনিকলের ১ হাজার ৮৪২ একর জমির মধ্যে কুয়ামারাসহ বেশ কিছু পুকুর রয়েছে। কয়েক দিন আগে কিছু সাঁওতাল ও বাঙালি কুয়ামারা পুকুরটি দখলে নিয়ে সেখানে শতাধিক ছোটো ছোটো ঝুপড়িঘর নির্মাণ করেছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ এ প্রসঙ্গে বলেন, গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব ঘর আগামী সাত দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় নিয়েছেন সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির নেতারা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে না নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির নেতাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
এর আগে ঐ এলাকার সব জমি বাপ-দাদার দাবি করে দখলে নিয়ে সেখানে প্রায় দেড় হাজার ঝুপড়িঘর নির্মাণ করেছিল সাঁওতাল-বাঙালিরা। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন সাঁওতাল নিহত হন।
