প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, সুন্দরবনকে অক্ষত ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই মোংলা ইকোনমিক জোনের কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে সিকদার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন প্রাইভেট লিমিটেডের বিনিয়োগ উন্নয়ন শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালমান এফ রহমান বলেন, বিশ্বে ইকোনমিক জোনের অনেক মডেল রয়েছে। চীনা ইকোনমিক জোন, জাপানিজ ইকোনমিক জোন, ভারতীয় ইকোনমিক জোন দেখে কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেকে বিনিয়োগ করতে আসছে। প্রথমে যখন ১০০ ইকোনমিক জোনের কথা বলা হয়েছিল, তখন অনেকে এটা বিশ্বাস করতে চায়নি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ১০০ যথেষ্ট নয়, ভবিষ্যতে এটা দ্বিগুণ করার প্রয়োজন পড়বে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ১ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। মোংলার ইকোনমিক জোনটি সুন্দরবনের কাছে। যারা এখানে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের অনুরোধ করব হলুদ কিংবা লাল ক্যাটাগরির কোনো শিল্প স্থাপনের প্রস্তাব না দিতে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মোংলা সমুদ্রবন্দরের কাছে ২০৫ একর জমিতে মোংলা ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হয়েছে। বেজার সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) সিকদার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন প্রাইভেট লি. এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন করেছে। দেশে পিপিপিতে এটাই এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ। ইতিমধ্যে সড়ক, সেতু, পানি সরবরাহ, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র, প্রশাসনিক ভবন ইত্যাদি নির্মিত হয়েছে। ৪৪ শতাংশ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে বিদ্যুেকন্দ্র, আধুনিক সুবিধা-সংবলিত অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র ও বর্জ্য শোধনাগার, পার্শ্ববর্তী নদীতে দুটি জেটি, ট্যাঙ্ক টার্মিনাল, শিল্প স্থাপনের সব ধরনের ইউটিলিটি ও সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এখানে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোনের সিইও সৈয়দ কামরুল হাসান মোহন, পরিচালক (স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট) নাইমুজ্জামান মুক্তা প্রমুখ।
