বিপর্যস্ত আমন চাষ, হুমকিতে বোরো
রফিকউদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
উখিয়া-টেকনাফে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকেরা আমন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা বলছে, আমন চাষাবাদ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই বসতবাড়ির আশেপাশে আমন চাষাবাদ করে থাকেন। সবমিলিয়ে প্রায় হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে অনেকেই এখন পর্যন্ত জমিতে লাঙ্গল ফেলতে পারেননি। আমনের জন্য রোপিত বীজতলা পানির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। খয়রাতিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম, মোকবুল আলী ও শামসুল আলমসহ একাধিক কৃষক জানান, তারা বাসা-বাড়ির ব্যবহূত টিউবওয়েলের পানির সাহায্যে বীজতলা তৈরি করতেন। এখন টিউবওয়েলে পর্যাপ্ত পানি না আসার কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, যেকোনো উপায়ে আমন চাষাবাদ হয়ে যাবে কিন্তু আগামী বোরো উত্পাদন নিয়ে কৃষকদের আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে। গত শুক্রবার কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অষ্টম সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পানি সরবরাহের জন্য ১০ হাজারেরও অধিক গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। আরো কিছু গভীর নলকূপ বসানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য হাজার হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে এভাবে পানি ওঠাতে গিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর (ওয়াটার লেয়ার) অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এখনই এসব গভীর নলকূপ বসানো সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে উখিয়া-টেকনাফ এলাকা হয়তো একসময় মরুভূমিতে রূপান্তর হবে। এই এলাকার মানুষসহ প্রাণিকূলের বসবাসের পরিবেশ হারিয়ে যেতে পারে। এখানে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া এখানকার পাহাড়গুলো বৃক্ষশূন্য হওয়ায় পাহাড়ের শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় ও অবাধে পাহাড় কাটার ফলে সেখানকার ভূমিও বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে পারছে না। তাই ভূগর্ভ থেকে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি ওঠানো বন্ধ করে দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য সুপেয় পানির অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন আহমদ এমপি, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও একই কমিটির সদস্য জাফর আলম, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উখিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি নির্ভরশীল উপজেলা উখিয়ার ৮০ শতাংশ পরিবার বিভিন্ন উপায়ে চাষাবাদের মাধ্যমে জীবন ধারণ করে আসছেন। রোহিঙ্গা আসার পর থেকে বিভিন্ন কারণে কৃষি শাকসবজি উত্পাদনের ওপর প্রভাব পড়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানির অপচয় করা হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী বোরো উত্পাদন নিয়ে কৃষকদের পস্তাতে হবে।’
