স্পোর্টস ডেস্ক
বয়স ৩৫ ছুঁইছুঁই। অধিনায়কত্ব করেছেন এর আগেও। ক্যারিয়ারে আছে ৭৩টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। এবার সেই অভিজ্ঞতাই তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান আজহার আলী। পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই এমন আশাবাদ জানালেন তিনি।
অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সরফরাজ আহমেদকে। তার ফিটনেস, পারফরম্যান্স কিংবা অধিনায়কত্ব—কোনোটাতেই খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। টেস্ট দলের দায়িত্ব পেয়েছেন আজহার আলী। টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেবেন তরুণ ব্যাটসম্যান বাবর আজম। ওয়ানডের ব্যাপারে আপাতত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পিসিবি।
আর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে পাকিস্তান দল। সেখানে খেলবে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট। আর এই সিরিজ দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের যুগে প্রবেশ করবে পাকিস্তান ক্রিকেট।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে কৃতজ্ঞ আজহার। তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে বড়ো সম্মান আর কিছু নেই। আমি একটা ঐতিহ্য রেখে দিতে চাই। আমি যে পরিমাণ ক্রিকেট পাকিস্তানের হয়ে খেলেছি, তাতে মনে করি আগামী চার-পাঁচটা বছর অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাইব এতদিনকার অভিজ্ঞতাটা দলের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে।’
টেস্টে পাকিস্তান এখন সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। আইসিসি র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান সপ্তম। আজহার মনে করছেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে এই অবস্থার পরিবর্তন আসবে। বললেন, ‘সামনেই আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে হবে। এখন আমাদের অবস্থান সপ্তম। এটা কাটিয়ে উঠতে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। র্যাংকিং বলছে, প্রায় সব দলই আমার চেয়ে ভালো। তাই চ্যালেঞ্জটা আসলে অনেক বড়ো। তবে আমরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে চাই। এমন কিছু চমক দেখাতে চাই, যাতে করে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।’
অধিনায়কত্ব নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে খোলামেলা আলোচনা করলেন আজহার। তিনি বলেন, ‘আমি আমার অধিনায়কত্বে এমন কিছু খেলোয়াড়কে রাখতে চাই, যারা লম্বা সময় পাকিস্তান ক্রিকেটকে সার্ভিস দিয়ে যেতে পারে। ঐতিহ্য বলতে আমি এটাই বুঝি। আমি চাইব নিজের অভিজ্ঞতাটা ওদের দিতে। বলব, কীভাবে ভয়হীন ও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হয়।’
ইতিবাচক ক্রিকেট খেলাটাই আজহারের সবচেয়ে বড়ো লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘জয়টা সব সময়ই জরুরি। আর এর চেয়েও বেশি জরুরি হলো ইতিবাচক একটা সংস্কৃতি দাঁড় করানো। আপনারা জানেন, ক্যারিয়ারের এই সময়ে আমি টেস্টকেই সবচেয়ে প্রাধান্য দিই। আমি মনে করি, এটাই ক্রিকেটের সেরা ফরম্যাট। এখানে খেলার জন্যই একজন খেলোয়াড়কে নিজের সেরা দক্ষতাটা দেখাতে হয়। আমি চাইব, ছেলেরা যেন লাল বলের ক্রিকেটে বেশি মনোযোগী হয়। কারণ এখানে মনোযোগ দিতে পারলে সাদা বলের ক্রিকেটটা এমনিই ঠিক হয়ে যাবে।’
নতুন দায়িত্বে বোর্ডের পূর্ণ সমর্থন পাবেন বলেই দাবি করলেন আজহার। বললেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমার ভূমিকাটা কেমন হবে। মানে আমি কি লম্বা সময়ের পরিকল্পনা করব, নাকি অল্প কিছুদিনের। আমাকে বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটা আপত্কালীন কোনো ব্যবস্থা নয়। আর এজন্যই প্রস্তাবটা আমি গ্রহণ করেছি। আমাকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে এটুকু বলতে পারি, নিজেকে এবং দলের হয়ে নিজের বোঝাপড়াকে কাজে লাগানোর মতো পর্যাপ্ত সময়ই আমি পাচ্ছি।’
