ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বিলম্বের পক্ষে ভোট এমপিদের

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৫

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সমঝোতা হলেও নিজ দেশের পার্লামেন্টে হোঁচট খেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর গতকাল শনিবার বসেছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন। বরিস জনসন চেয়েছিলেন এই অধিবেশনে তার ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করাতে। কিন্তু এমপিরা সেই পথে হাঁটলেন না। তারা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে ইইউর কাছ থেকে সময় বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা চুক্তিহীন বা নো ডিল ব্রেক্সিটের পথও আটকে দিয়েছেন।

নতুন এই সংশোধনী বিলটি উত্থাপন করেন সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী অলিভার লেটউইন। বিলটি ৩২২-৩০৬ ভোটে পাশ হয়। এর ফলে জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে আর ভোটাভুটি হয়নি। বিল অনুযায়ী ৩১ অক্টোবরের পর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়ে ইইউকে চিঠি লিখতে বাধ্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তবে জনসন জানিয়েছেন, তিনি ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে ইউরোপের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা করবেন না। তার দাবি, আইনও এক্ষেত্রে তাকে বাধ্য করতে পারবে না। তিনি বলেন, ব্রেক্সিট আরো বিলম্বিত হলে তা দেশের জন্য খারাপ হবে। একইসঙ্গে ইইউ ও গণতন্ত্রের জন্য খারাপ হবে। জনসন আগামী মঙ্গলবার আবারও তার ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর ভোটাভুটি করার চেষ্টা চালাবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই লক্ষ্য অর্জিত হবে। যদিও অন্যরা মনে করছেন ব্রেক্সিটের জন্য একটি স্বল্প ‘কৌশলগত’ বিলম্ব প্রয়োজন। ইইউ জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটি যুক্তরাজ্যের ওপরই নির্ভর করছে। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, এই পরাজয় প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রীর কৌশল নাকচ হয়েছে। তাকে এখন ইইউর কাছে সময় চাইতে হবে।

ফের গণভোটের সুযোগ

চেয়ে বিশাল বিক্ষোভ

এদিকে, ব্রেক্সিট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরেকবার গণভোটের সুযোগ চেয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে গতকাল বিশাল শোডাউন করেছে একটি পক্ষ। তারা এই বিক্ষোভের নাম দিয়েছিল ‘পিপলস ভোট মার্চ’। বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্তত ১০ লাখ লোক এসেছিলেন। তারা সবাই আরেকবার গণভোট চান। ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে চূড়ান্ত ভোটাভুটি উপলক্ষ্যে গোটা ব্রিটেন থেকে দলে দলে লোক আসে। লন্ডনের পার্ক লেন থেকে মিছিল শুরু হয়ে পার্লামেন্ট স্কোয়ারে গিয়ে তা শেষ হয়। ৬০ বছর বয়সি লোথিয়ান এসেছিলেন ডান্ডি থেকে। তিনি বিবিসিকে বলেন, তিনি মনে করছেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাবার আগে আরেকবার তাদের মতপ্রকাশের সুযোগ পাওয়া উচিত। প্রথম গণভোটে যদি কেউ ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন তবে তা যেন দ্বিতীয় ভোটে সংশোধনের সুযোগ পান। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে শুনে বিক্ষোভে আসা জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন।