বৃদ্ধ মাকে জঙ্গলে ফেলে এসেছিল পুত্র ও পুত্রবধূ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৫

পুত্র-পুত্রবধূ মিলে মাকে শেষ পর্যন্ত রাতে বাগানে ফেলে দিলেও গর্ভধারিণী বৃদ্ধ মা সন্তানদের প্রতি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হননি। এক সময় যে মায়ের ছোঁয়া না পেলে সন্তানের জীবন বাঁঁচত না, সেই মাই হয়ে যান অপাংক্তেয় বোঝা! এমনই এক ঘটনা ঘটেছে উপজেলার আরাজি ডুমুরিয়া গ্রামের বিধবা চার সন্তানের জননী প্রায় পঁচাত্তর বছর বয়সের মা ময়না পালের জীবনে।

সরকারের কাছ থেকে ময়না পালের পাওয়া ঘর থেকে তার বড়ো সন্তান গৌরপদ পাল ও তার স্ত্রী অঞ্জনা রানি পাল শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ির পাশের অন্ধকার নির্জন বাগানে ফেলে দেয় মাকে। উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ ও ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুর ইসলাম বিপ্লব খবরটি জানতে পেরে দ্রুত ছুটে যান ঘুটঘুটে অন্ধকার বাগানে। উদ্ধার করেন বিধবা ময়না পালকে। তুলে দেন তার নিজ ঘরে। প্রতিবেশীরা জানান, গৌরপদ পাল, উজ্জল পাল, জয়দেব পাল ও জগন্নাথ পাল নামে চারটি ছেলে রয়েছে তার। তাদের সকলেরই পৃথক সংসার। ময়না পাল বড়ো ছেলে গৌরপদ পালের সঙ্গে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরেই বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছে তার ছেলে গৌরপদ পাল ও তার স্ত্রী অঞ্জনা রানি। তার স্ত্রী ঐ বৃদ্ধাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতনও করত। সম্প্রতি জায়গা আছে ঘর নাই প্রকল্পে ঘর পান ময়না পাল। কিছুদিন না যেতেই বৃদ্ধকে নির্যাতন করতে থাকে গৌরপাল ও তার স্ত্রী অঞ্জনা রানি । বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে নির্যাতনও করে। ঘটনার দিন রাতে মাকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা দেয় গৌরপদ।

তারা আরো বলেন, মা ময়না পাল যে ঘরে থাকতেন সেখানে গৌরপদ রান্নার কাঠ ও ছাগল রাখত। এ নিয়ে মা বিভিন্ন সময়ে আপত্তি তোলায় শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ঘরে থেকে বের করে বাগানে থাকতে দেয়।

ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি রাত দেড়টার দিকে বাইরে ডিউটি করছিলাম। তখন স্থানীয়দের কাছ থেকে মাকে বাগানে রাখার খবর পাই। দ্রুত পুলিশ নিয়ে সেখানে যাই। বৃদ্ধা মাকে ফের ঘরে তুলে দিয়েছি। এখন থেকে নিয়মিতভাবে আমরা তার খোঁজ খবর নেবো। মা কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে চান না বলে সামাজিক ও মানবিকভাবে বিষয়টি দেখছি।’