গত বৃহস্পতিবার ভারতের বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের রাজশাহী সীমান্তে প্রবেশ করে ‘বাহাদুরি’ দেখিয়েছে। এতে বিজিবি বাধ্য হয়েই গুলি করেছে বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি এবং এক বিএসএফ সদস্যের নিহতের ঘটনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো যেসব তথ্য দিচ্ছে তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই ঘটনার জন্য তিনি বিএসএফকেই দায় দিয়েছেন। গতকাল শনিবার জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তারাই (বিএসএফ) আমাদের এখানে এসেছে এবং এসে তারা বাহাদুরিও করেছে। আমাদের ছেলেদের (বিজিবি) তাদের লাস্ট জব হিসেবে বাধ্য হয়ে গুলি করতে হয়েছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, এটা ওয়ান ইনসিডেন্ট (একটা ঘটনা)। একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন ঘটেছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, আগে বিএসএফ বছরে অনেকজনকে মেরে ফেলত। আমরা তখন কেবল দুঃখ করেছি। কিন্তু গত বছর মাত্র তিন জনকে মেরে ফেলেছে। একজনের মৃত্যুও অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আগে কখনো মামলা করিনি। ভারত এখন নতুন করে করেছে। কোনো ‘পণ্ডিতও’ আমাদেরকে আগে মামলা করার কথা বলেননি। আগামী দিনে বাংলাদেশও এই পথে হাঁটতে পারে বলে জানান তিনি। ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফর, ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু ও প্রবাসী প্রসঙ্গেও কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের উষ্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করা এবং তা অর্জন হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সমঝোতা হয়েছে। এগুলো হবে তা আমরা আশা করেছি, কিন্তু আসল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে ‘টু ডেভেলাপ দিস ওয়ার্ম রিলেশনশিপ।’
ভারত এবং বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে বাংলাদেশ শুধু দিয়েই যাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা শুধু ডাহা মিথ্যাই না, অনেকে নানা কথা বানিয়ে যাচ্ছেন যারা বিষয়টি পছন্দ করছে না। আমরা দিয়েছি কিছু এবং সেই সঙ্গে পেয়েছিও কিছু। সম্পর্কের স্থিতিশীলতাই বড়ো পাওনা। সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই বড়ো অর্জন।
ফেনী নদীর পানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী আছে। এর মধ্যে বড়ো নদী সাতটি। তিস্তা নদীর বিষয় ভারত স্বীকার করেছে বণ্টন হবে। কিছু সমস্যা থাকায় তারা ২০১১ সালের সেই ওয়াদা রাখতে পারেনি। ফেনীতে যে পানি দেওয়া হচ্ছে তা খুবই সামান্য। ১২৬ কিউসেকের মধ্যে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক ১ ভাগেরও কম। মানবিকতার জন্যই বাংলাদেশ এই পানি দিচ্ছে। তারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পাম্প দিয়ে পানি উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি অধিক পানি নিয়ে যাচ্ছিল। এখন একটা কাঠামো তৈরি হয়েছে। তারা এখন ১ দশমিক ৮২ কিউসেকের বেশি নিতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে উপকূলে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যার অধীনে ভারত বাংলাদেশের উপকূলে যৌথভাবে রাডার স্থাপন করতে পারবে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। এর ফলে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হবে কি না এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা চীন থেকে সাবমেরিন কিনেছিলাম। তখন ভারত যদি সাবমেরিন দিত আমরা ভারত থেকেও কিনতাম। ভারত তখন সাবমেরিন দিতে পারেনি, আমরা তাই চীন থেকে কিনেছি। রাডারের যে সমঝোতা হয়েছে তার ভিত্তিতে কী করা হবে সে বিষয় এখনো নির্ধারণ হয়নি। একটি নীতি আমরা গ্রহণ করেছি যে, আমাদের অংশগুলো (সমুদ্রসীমা) আমরা দেখভাল করব। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও জায়গাগুলোর সম্পৃক্ততা আছে সমুদ্রের। একসঙ্গে যৌথভাবে আমরা জায়গাগুলো দেখভালের জন্যেই এই সমঝোতা। কীভাবে সেটা পরে বিশেষজ্ঞরা ঠিক করবেন।
