ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বিদেশে দুই ব্যাংকে ৮০ কোটি টাকা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় রয়েছে তার দুইটি বিলাস বহুল ফ্ল্যাট। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন সম্রাট।
র্যাব সূত্র জানায়, সম্রাট জানিয়েছে জার্মানির একটি ব্যাংকে আছে ৪৬ কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডের একটি কোঅপারেটিভ ব্যাংকে আছে ৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া সিঙ্গাপুরে ম্যারিনো বেতে রয়েছে তার একটি বিলাস বহুল ফ্ল্যাট। গ্রেফতার হওয়ার বেশ কিছু দিন আগে এ ফ্ল্যাটটি বিক্রির জন্য সিঙ্গাপুরে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। এছাড়া মালয়েশিয়ায় রয়েছে তার আরো একটি ফ্ল্যাট।
গত ১৫ অক্টোবর অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন। এছাড়া তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে মাদক আইনের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়। গত ১৭ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয় থেকে তাদেরকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে র্যাব-১ কার্যালয় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুই মামলার তদন্তভার র্যাবকে দেওয়া হয়েছে। এই কারণে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সম্রাট ও আরমানকে র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসার পর তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করে র্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভুঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
প্রায় ৫ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং নির্যাতন করার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র্যাবের পক্ষ থেকে। পরে র্যাব-১ এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
