অ্যালবামটি দেখে প্রধানমন্ত্রী আপ্লুত হয়ে যান

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:২১

নিহার সিদ্দিকী, নিউইয়র্ক

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রস্তাব দেন বাংলাদেশ যেন ভারতের আর্থ স্টেশন ব্যবহার করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে। তবে বঙ্গবন্ধু বিনয়ের সঙ্গে এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজ দেশেই আর্থ স্টেশন তৈরির কাজ শুরু করেন। ১৯৭৫ সালে রাঙ্গামাটিতে উদ্বোধন করেন দেশের প্রথম আর্থ স্টেশন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র। সেসময় থেকেই দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের চিন্তা-ভাবনা চলতে থাকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১৮ সালের ১২ মে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উেক্ষপণ করে। পৃথিবীর ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম এখন থেকে উচ্চারিত হচ্ছে একটি নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হিসেবে।

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উেক্ষপণের বিস্তারিত কভারেজের ওপর ভিত্তি করে আমার নিজের তোলা আলোকচিত্র দিয়ে একটি বিশেষ অ্যালবাম করেছিলাম। বাংলাদেশের এত বড় একটি অর্জনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলোকে এক করার উদ্যোগটা আমার নিজেরই ছিল। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে সেই অ্যালবামটি আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজ হাতে উপহার দিতে পেরেছি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়ার আগে ব্যক্তিগতভাবে মানবতার জননীর হাতে তুলে দিই বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ উেক্ষপণের ঐতিহাসিক প্রতিটি মুহূর্তের ধারণকৃত ইতিহাস। আমার কাছ থেকে এই উপহার পেয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা অত্যন্ত খুশি হন। অ্যালবামটি দেখে তিনি আপ্লুত হয়ে যান। তিনি মাথায় হাত দিয়ে বলেন, ‘সবগুলো ছবি নিয়ে সংগ্রহে রাখার মতো একটা কাজ করেছো। খুব সুন্দর হয়েছে।’

আমার জন্য এই ঘটনা ছিল অনন্য এক অর্জন। এই অবিস্মরণীয় মুহূর্তে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছের মানুষ ও ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান, কিংবদন্তী বেতার ও টিভি ব্যক্তিত্ব রোকেয়া হায়দার।

 

লেখক:খ্যাতিমান আলোকচিত্রী