দুর্নীতিকে সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৯

মো. আশরাফুজ্জামান শাওন

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে বোঝা যায়, দেশ যেভাবে তার নতুন অগ্রযাত্রায় ধাবিত হচ্ছিল দুর্নীতি কারণে সেটাতে বারবার বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। টেন্ডারবাজি সংক্রান্ত কাজটা এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বারা হচ্ছে বেশি, সঙ্গে ক্ষমতার দাপট আর চাঁদাবাজির তো অভাবই নেই। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বালিশ, তোশক, খাটের দুর্নীতি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হচ্ছে এটার। ১০ টাকার জিনিস যে ১০০ টাকায়  রূপান্তর হচ্ছে তার পেছনে যে রাজনৈতিক ক্ষমতার উত্স পাওয়া যায় এটা নিশ্চিত। কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেল, এক বৃদ্ধ চাচা তার কবজির আঘাত দিয়ে সরিষা বীজের মতো রাস্তার পিচ তুলে ফেলছেন, বিষয়টা ব্যাপক হাস্যকর মনে হয়েছিল দেশের জনসাধারণের কাছে। আর যদি এভাবে গুটিকয়েক অসাধু ব্যক্তির জন্য জনগণের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা টাকা বৃথা হয়ে যায়, তাহলে সেটা ভারি অন্যায় হবে।

দেশে নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতির ছোঁয়া লেগেছে। দরিদ্রতা, লোভ এবং বিচারহীন সংস্কৃতি এর বিশেষ কারণ। তাছাড়া দেশে কর্মসংস্থান হার সন্তোষজনক নয়, দিন দিন যেভাবে বেকারত্ব সমস্যা বেড়ে চলেছে। তার ফলে চাকরি নেওয়ার জন্য দুর্নীতির মতো জঘন্যতম অপরাধ করতে কুণ্ঠা বোধ করছে না। মা-বাবা সন্তানের সুখের জন্য অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার আশাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। সুতরাং, একে অপরের দেখাদেখির মাধ্যমে সেটা সমাজে ব্যাপক আকার ধারণ করছে। তাছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতের প্রসারটাও কম নয়। তাদের সুপারিশ দলীয়করণের দিকটা তারা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সরকারের কিছু অসাধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অর্থের লোভের আশায় নিজের ব্যক্তিত্বকে বিলিয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু দুর্নীতি গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিটা ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে প্রয়োজন আন্তরিকতা, সততা ও জবাবদিহিতা। বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি বিভিন্ন সচেতনমূলক প্রোগ্রামের আয়োাজন করছেন। স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের ব্যাপক প্রচার-প্রসারণা চালাচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বিতর্ক আয়োজনের পাশাপাশি শপথ গ্রহণ করাচ্ছেন। যার ফলে দুর্নীতি সম্পর্কে তাদের নেতিবাচক প্রভাব ও প্রতিরোধের সদিচ্ছা জন্মাবে, এর ফলে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী দুর্নীতি থেকে ফিরে আসার পাশাপাশি দেশকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হবে। শুধু সরকারিভাবেই নয় বেসরকারিভাবেও দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে মানুষের ভেতরে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। যদি এই প্রভাবটা ধরে রেখে কাজে লাগানো যায় তাহলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অনেকটা সম্ভব হবে। দুর্নীতিদমন কমিশন কর্তৃক মুক্ত অভিযোগ মঞ্চ তৈরি করতে হবে, যেখানে উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে কর্মচারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়। আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য, যেভাবে আমাদের সামাজিক উন্নয়নের সুযোগগুলো যে হারে ঊর্ধ্বগামী হচ্ছে, দুর্নীতিকে সেই হারে নিম্নগামী করতে হবে। নিজেদের দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি সরকারকে ও সহযোগিতা করতে হবে। সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনকে মনে রাখতে হবে যে, তারা স্বাধীন কার্যক্রমের অধিকারী। সুতরাং অভিযোগগুলোতে ধুলো জমার আগেই সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য সারাদেশের মানুষের শপথ হওয়া উচিত— ‘দুর্নীতিমুক্ত থাকব আমরা গড়ব সোনার বাংলা’।

n লেখক :শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ