বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
নবাবগঞ্জ আশুড়ার বিলে নির্মিত মনমুগ্ধকর কাঠের সেতুর পর এবার ঐ বিলে নতুন করে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। সারাদিন অতিথি পাখির কলরবে মুখর থাকে এলাকাটি। এদিকে বিলে ফুটতে শুরু করেছে লাল শাপলাও। আর এসব সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিলে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
সরেজমিনে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে আশুড়ার বিলে যাওয়ার সময় দেখা গেছে, ব্যাটারিচালিত ৩০টি অটোভ্যান নিয়ে বিলে পিকনিক শেষে বাড়িতে ফিরছে ভ্রমণপিপাসুরা। শেষ বিকালে আশুড়ার বিলের পানি, মুক্ত বাতাস, চারপাশে সবুজ ঘন অরণ্য, পাখিদের কিচিরমিচির ডাকাডাকি ও বিলের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে বিচিত্র পাখির উড়ে বেড়ানোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্তরে অন্যরকম শিহরণ জাগিয়ে তুলছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে শালবনের কোল ঘেঁষে এ বিলের অবস্থান। বিলের উত্পত্তি নিয়ে রয়েছে বিচিত্র কাহিনী। কথিত আছে, এই বিলের চারপাশ থেকে ৮০টি দার বা নালা চতুর্দিকে ছড়িয়ে যাওয়ায় এর নামকরণ করা হয় আশুড়ার বিল। এ বিলের সাদা শাপলা ও লাল পদ্মফুলের সমাহার উপভোগ করার মতো ছিল। আর বিলের পাড় থেকে স্বচ্ছ পানির ঝরনা বহমান ছিল। দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে বিলটি তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে। তবে বর্তমানে কিছুটা হলেও সৌন্দর্য ফিরে আসতে শুরু করেছে।
নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান রক্ষা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. মাহাবুর আলম জানান, আশুড়ার বিলে ক্রসড্যাম হওয়ায় ইতোমধ্যে পানি বেড়ে শাপলা ও পদ্ম ফুল ফুটছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বিলে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান জানান, আগাম শীতেই আশুড়ার বিলে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি যা আগে আসত না। এরই মধ্যে বিলে কয়েক হাজার পাখি এসেছে। আশুড়ার বিলে কেউ যেন অবৈধভাবে মাছ ও পাখি শিকার করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের দৃষ্টি রয়েছে।
