তৌহিদ আজিজ
চিলিতে জরুরি অবস্থার মধ্যেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মেট্রোর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে লাতিন আমেরিকার স্থিতিশীল এই দেশটিতে বিক্ষোভের শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভ মারাত্মক আকার ধারণ করলে দেশটির প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারি করেন। কিন্তু তার পরও বিক্ষোভ চলতে থাকায় উপায়ন্তর না দেখে তিনি ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত ঘোষণা করেন। তা সত্ত্বেও সেখানে বিক্ষোভ থামছে না। এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীরা একটি মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দিলে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু লোক আহত হয়।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, এমনিতেই তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তার ওপর হঠাত্ করে ওই ভাড়া বৃদ্ধি তাদের জীবনকে আরো বিষিয়ে তুলেছে। তারা বলেন, সরকারের কাছে আগে থেকেই অর্থনৈতিক সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেদিকে তারা না তাকিয়ে উলটো জনগণের ঘাড়ে ব্যয় বৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা বলেন, এটা সরকারের একটা দূরভিসন্ধি। কেননা একটার ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারলেই অন্য খাতেও তারা ধীরে ধীরে একই পন্থা অবলম্বন করবেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আজকের এই বিক্ষোভ। সরকার আপাতত ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তারা সামনে আর এ ধরনের পদক্ষেপ নেবেন না। এটা তাদের বিক্ষোভ দমনের একটা কৌশল মাত্র। তাই আমাদের এ আন্দোলন এখন সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে মোড় নিচ্ছে। কেননা একটা দেশের মানুষ এভাবে মূল্যবৃদ্ধির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বেঁচে থাকতে পারে না। অপর আরেকজন বিক্ষোভকারী বলেন, সরকার রাতে কারফিউ জারি করেছে। রাস্তায় সামরিক বাহিনী ও ভারী ট্যাংক নামিয়েছে। কিন্তু আমরা এতে মোটেই ভীতসন্ত্রস্ত নই। এতে করে আমাদের আন্দোলন আরো বেগবান হবে।
এদিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দমাতে টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে। তিন শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছে ১৫০ পুলিশ। বিক্ষোভের ফলে সাংস্কৃতিক এবং খেলাধুলার সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চিলির বর্তমান অবস্থা হঠাত্ করেই সৃষ্টি হয়নি। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ হয়ে এ অবস্থায় নামতে বাধ্য হয়েছে। কাজেই এ সংকট সমাধানে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে মানুষের মাঝে আস্থার জায়গাটি ফিরিয়ে আনতে হবে। কেননা এই বিক্ষোভ দেশটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্বক বিক্ষোভ। তাই একে কোনোরকম ধামাচাপা দিয়ে সমাধান করা হলে আবার তা ফুঁসে উঠতে পারে। তারা বলছেন, অবস্থাদৃষ্টে এটি চিলির স্বৈরশাসক অগাস্টো পিনোশের দুঃশাসনের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে বিবেচনায় চিলির গণতন্ত্র ফের হুমকির মুখে পড়েছে।
