অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ডিআইজি প্রিজন্স কারাগারে

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩০

সোয়া ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেফতার কারা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) বজলুর রশীদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলবের পর গতকাল রবিবার তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত জানিয়েছেন, অবৈধ সম্পদের অর্থ থেকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কেনা আছে বজলুর রশীদের নামে। বিকালে ঢাকা মহানগর জজ আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার পর্যন্ত বজলুর রশীদকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন। অন্যদিকে জামিনের আবেদন করেন বজলুরের আইনজীবী। বিচারক আল মামুন জামিনের আবেদন নাকচ করে কারা কর্মকর্তা বজলুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল বজলুরের বিরুদ্ধে কমিশনের সম্মিলিত ঢাকা জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে অসাধু উপায়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দুদক         মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী রোডে রূপায়ণ হাউজিংয়ের স্বপ্ন নিলয় প্রকল্পের ২ হাজার ৯৮১ বর্গফুট আয়তনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন বজলুর রশীদ। এর দাম হিসেবে পরিশোধ করা ৩ কোটি ৮ লাখ টাকার কোনো বৈধ উত্স তিনি প্রদর্শন করতে পারেননি। এমনকি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়সংক্রান্ত কোনো তথ্যও তার আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেননি। ফলে এই পরিশোধিত ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা জ্ঞাতআয়ের উেসর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের সঙ্গে বজলুর চুক্তি করেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে পরিশোধ করেন। বাকি ৩ কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা নগদে পরিশোধ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রূপায়ণ হাউজিং থেকে তার তথ্য যাচাই করে ফ্ল্যাট কেনার সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু ফ্ল্যাট কেনার অর্থের উেসর বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

কারা ক্যাডারের ১৯৯৩ ব্যাচের কর্মকর্তা বজলুর রশীদ এখন ঢাকায় কারা সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিআইজি হিসেবে সর্বশেষ রাজশাহীতে ছিলেন।