‘আবরারকে শায়েস্তা করার মিটিংয়ে আমিও ছিলাম’

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩১

 ‘আবরার ফাহাদকে হত্যার আগে বড়োভাইরা আবরারকে শায়েস্তা করার মিটিং করে। ঐ মিটিংয়ে আমি উপস্থিত ছিলাম।’ গতকাল রবিবার বুয়েটের ছাত্র তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে গিয়ে এ কথা বলে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সে জবানবন্দি দেয়।

রিমান্ড শেষে গতকাল তানভীরকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি তানভীরের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

জানা গেছে, এর আগে ছয় আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির                অনুরূপ জবানবন্দি দিয়ে তানভীরও হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে। তানভীর অন্য আসামির সঙ্গে আবরারকে তার নিজের কক্ষ থেকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনে। তার আগে মেহেদী হাসান রবিন, সকাল, মুজাহিদ, অনীক সরকার ও মনিরসহ তানভীর মিটিংয়ে আবরারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তাকে ডেকে আনা হয়।

তানভীর আদালতকে আরো জানায়, আবরারের সঙ্গে তার মোবাইল ও ল্যাপটপ আনা হয়। এ সময় তার ইমেইল চেক করে ও ল্যাপটপ চেক করে শিবিরের অনেক তথ্য পায়। রবিন, সকাল ও অন্যরা শিবিরের সঙ্গে আবরারের সম্পর্কের কথা বলে ঘটনাস্থলের সবাইকে উত্তেজিত করেন। এরপর দফায় দফায় তাকে মারধর করা হয়। 

অনেকই তাকে দফায় দফায় ক্রিকেট স্ট্যাম্প, স্কিপিং দড়ি দিয়ে পেটায়। কিল-ঘুষিও মারে। এলোপাতাড়িভাবে মারতে মারতে রাত দুইটার দিকে আবরার মারা যান। পরে ডাক্তার ডাকা, পুলিশ ডাকার বিষয়েও আদালতকে বলে তানভীর।

অমিত ও রাফাত কারাগারে: এদিকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা অমিত সাহা ও শামসুল আরেফিন রাফাতকে আদালতে হাজির করা হয় গতকাল। ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে বলা হয়, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আবরারের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে হলের সিঁড়িতে ফেলে যায় হত্যাকারীরা।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারনামীয় ১৯ আসামির মধ্যে ১৬ জন এবং আরো পাঁচ জনসহ মোট ২১ জনকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।