পাখির জন্য ভালোবাসা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৪

বন-জঙ্গল কমে যাওয়ায় সারাদেশে পাখির আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পাখির সংখ্যাও কমেছে উদ্বেগজনক হারে। কিন্তু ঝিনাইদহের বেশ কিছু এলাকায় পাখির আনোগোনা দেখলে একটু অবাকই হতে হয়। জেলার গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড বাজার, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরে ভোরবেলায় ঝাকে ঝাকে পাখির আগমনে অপরূপ এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পাখির প্রতি মানুষের ভালোবাসা থেকেই ঝিনাইদহের এসব এলাকায় পাখির আনাগোনা বেড়েছে।

স্থানীয় অনেকে পাখিদের নিয়মিত খাবার দেন। খাবারের দোকানের আগের দিনের অবিক্রীত পরোটা, সিঙাড়া ও রুটি ফেলে না দিয়ে পরের দিন সকাল হলেই ছড়িয়ে দেওয়া হয় রাস্তায়। সাথে সাথে আশপাশের গাছ থেকে উড়ে চলে আসে শত শত পাখি।  ঝাকে ঝাকে শালিক পাখি খাবার খেয়ে চলে যায়।

এমনই এক পাখিপ্রেমিক গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড বাজারের মিলন ঘোষ। খাবারের দোকানদার মিলন ঘোষ গত ১২ বছর ধরে অবিক্রীত খাবার রেখে দিয়ে পাখিকে খাইয়ে যাচ্ছেন। সকালে ঐ খাবার দোকানের সামনে ছিটিয়ে দিলেই ছুটে আসে পাখির দল। পাখিদের খাওয়া দেখে নিজেও আনন্দ পান। তার দেখাদেখি অন্য খাবারের দোকানদারও খাবার দিতে শুরু করেন পাখিদের। দোকানদার চৈতন্য কর্মকারও প্রতিদিন পাখিদের নিয়ম করে খাবার দেন। পাখিদের ভালোবেসে খাওয়াতে ভালো লাগে তারও। আরেকজন পাখিপ্রেমি মুদিদোকানদার রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখানকার মানুষ এখন আর পাখিদের মারে না, বিরক্ত করে না। একসঙ্গে অনেক পাখি দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, পাখিদের খাবার দেওয়া একটি ভালো দিক। বন থেকে স্বাভাবিক আহার সংগ্রহের সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে।  তাই এরা খাবারের জন্য লোকালয়ে আসছে।  আর যেখানে নিরাপদ মনে করছে, সেখানে দল বেঁধে অবস্থান করছে।