আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাদশ সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলে ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, মন্ত্রী হলে মেনন কি এ কথা বলতে পারতেন? রাশেদ খান মেননের এ বক্তব্যের বিষয়ে ১৪ দলের সমন্বয়কের কাছে জানতে চাওয়া হবে বলে তিনি জানান।
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যদি বলেই থাকেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিন পরে কেন? এই সময়ে কেন? নির্বাচনটা তো অনেক আগে হয়ে গেছে। আরেক প্রশ্ন সবিনয়ে, মন্ত্রী হলে কি তিনি এ কথা বলতেন? আর কিছু বলতে চাই না।’ ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির পর একটি ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা ওঠার ক্ষোভে তিনি এসব কথা বলছেন কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি তাকে জিজ্ঞাসা করলে ভালো হয়, তিনি কেন ক্যাসিনোকাণ্ডের পর এ কথা বললেন, ইলেকশনের পর কেন বললেন না।’ মেনন শপথ ভঙ্গ করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ প্রশ্নটাও তাকে করেন।’
সরকার দলীয় এমপি বুবলীর পরীক্ষা জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। বিতর্কিত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটিতে কোনো পদ পাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নেতৃত্বে পরিবর্তন-পরিবর্ধন নিয়ে কোনো কথা বলব না। এটুকু বলতে চাই, নেতৃত্ব যদি বিতর্কিত হয়, বিতর্কিত নেতৃত্ব অবশ্যই নতুন কমিটিতে থাকবে না।’ বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপিকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি আইনি হলেও বিএনপি এটা নিয়ে রাজনীতি করছে, সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছে। কিন্তু তার মুক্তি নিয়ে আন্দোলনের কথা মুখে বললেও এখনো বিএনপি কোনো আন্দোলন করে দেখাতে পারেনি। আন্দোলন করতে সরকার তাদের বাধা দিচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে আন্দোলন করতে বলুন। তারা পরিষ্কার বলে দিয়েছে, আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো বিকল্প নেই। কাজেই এক মুখে এত কথা কেন? তাদের বলুন আন্দোলন করতে।’ ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতারা একবাক্যে বলছেন যে খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি পথে হবে না, অন্য কোনোভাবে হবে না, সরকার তাকে মুক্তি দেবে না। কাজেই আন্দোলনের ঝড় তুলতে হবে এবং বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে, তারপর তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে বের করতে হবে। আন্দোলনে তো কোনো বাধা নেই। জনগণ সায় দিলে আন্দোলন করবে। মাদক, জুয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্যাসিনোকাণ্ডসহ কোনো অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। অনেকের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, বিদেশে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
