পোশাকে ঐতিহ্যের খোঁজে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৫৮

 নওশীন শর্মিলী

 

দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশন ও অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল ’১৯। আগামী ২৩ থেকে ২৬ অক্টোবর গুলশানের গার্ডেনিয়া গ্র্যান্ড হলে এই ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে। ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের তাঁত ও কারুপণ্য পণ্য যেমন :নকশিকাঁথা, মিরপুর বেনারসি, জামদানি, টাঙ্গাইল তাঁত, সিরাজগঞ্জ তাঁত, মণিপুরী তাঁত ও রাঙামাটি তাঁত, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি, রিকশা আর্ট, পটচিত্র নিয়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন, ডিজাইনার ও তাঁতিসহ সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করবেন। হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কে এম হাবিব উল্লাহ।

আয়োজকরা সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী শৈল্পিক সৃজনশীলতার মিশ্রণে এবারের ফেস্টিভ্যালে ৩৫টিরও বেশি স্টল থাকবে। যা ১৫টি ঐতিহ্যবাহী পণ্য থেকে তৈরি পোশাক ও অনুষঙ্গ প্রদর্শিত হবে। এরমধ্যে জামদানি, নকশী কাঁথা, মিরপুর বেনারসি, টাঙ্গাইল তাঁত, সিরাজগঞ্জ তাঁত (লুঙ্গি, গামছা, শাড়ি),  রাজশাহী সিল্ক, খাদি, রাঙামাটি হ্যান্ডলুম, মণিপুরী তাঁত, পাটজাত পণ্য, হস্তনির্মিত গহনা, শতরঞ্জি, রিকশা আর্ট, বেত ও বাঁশজাতীয় পণ্য ও পটচিত্র। এই ১৫টি সেক্টর থেকে তাঁতি ও কারিগরদের এএফডিবি, এসএমইএফ এবং বিশিষ্ট শিল্পী কুহু পেমন্ডন, কনকচাপা চাকমা ও বিপ্লব সাহা যৌথভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ডিজাইনাররাও তাদের হ্যান্ডলুম সংগ্রহগুলো দিয়ে উত্সবে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করতে যোগ দেবেন। তারা জানায়, ডিজাইনার মনতাশা আহমেদ প্রদর্শনীর জন্য ঐতিহ্যবাহী জামদানির পোশাক তৈরি করেছেন। ডিজাইনার বিপ্লব সাহা প্রদর্শনীর জন্য যেসব পোশাক তৈরি করেছেন, তার ফেব্রিক হলো খাদি। খাদির উপরে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট করে ফিউশন ও ট্রেন্ডি পোশাক তৈরি করেছেন। ডিজাইনার ওয়ারেজ আব্দুল সিরাজগঞ্জের তাঁত ব্যবহার করে গামছার ট্রেন্ডি পোশাক প্রদর্শন করবেন। ফিনারীর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ড চিং চিং এবারের ফেস্টিভ্যালে রিকশাপেইন্ট ভিত্তিক পণ্য প্রদর্শন করবেন। ডিজাইনার নূর এ জান্নাত কাজ করেছেন পাট নিয়ে। পাটের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও ওয়েস্টার্ন পোশাক তৈরি করেছেন।

চার দিনব্যাপী এই ফেস্টিভ্যালের মূল উদ্দেশ্য হলো—আমাদের ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুম পণ্যগুলোকে পুনরুদ্ধার করা এবং প্রচার করা, তাঁতি ও ডিজাইনারদের একে অপরের সঙ্গে জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সংস্থান বিনিময় করার জন্য একটি প্যাটফর্ম তৈরি করা, তাঁতি ও কারিগরদের বিপণন ও রফতানির সুযোগ দান এবং হ্যান্ডলুম শিল্পে নতুন প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলা।

অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনারস অব বাংলাদেশ (এএফডিবি)-এর সভাপতি মানতাশা আহমেদ বলেন, ‘গত বছরের সাফল্যের পর এবছরও হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়েছে। এই উত্সবের মূল লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শীর্ষ স্থানীয় ডিজাইনার, তাঁতি ও কারিগরদের তৈরি পণ্যগুলোর সৃজনশীল বৈশিষ্ট্যযুক্ত ঐতিহ্যকে সবার কাছে তুলে ধরা। এটি একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তাঁতি ও কারিগররা একই প্ল্যাটফর্মে ডিজাইনারদের সঙ্গেড় কাজ করার পাশাপাশি একে অপরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা শেয়ার করতে পারবেন।’

এই ফেস্টিভ্যালে বুনন শিল্পের বিভিন্ন খাতের প্রশিক্ষকরা বুননের বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করবেন। তাঁতি, কারিগর ও অংশগ্রহণকারীদের বিকাশের সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে এই আয়োজনে সেমিনার, ফোকাস গ্রুপ, শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্প, ফ্যাশন শো, প্রকাশনার উদ্বোধন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রয়েছে।      মডেল        ইনায়া, নিধি ও নিহাফ

              পোশাক      জামদানি

              ডিজাইন     মানতাশা আহমেদ

                   ব্যাগ      নুজহাত ইউসুফ বারী

         মেকআপ     বানথাই

               স্টাইলিং     ইমু হাশমি

               ছবি      অনিক