সহিংসতা থামাতে চিলির আরো কয়েকটি শহরে জরুরি অবস্থা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫২

গার্মেন্ট কারখানায় লুটেরাদের আগুনে পাঁচ জন নিহত

বিবিসি ও রয়টার্স

সহিংস বিক্ষোভ, লুটপাট ও প্রাণহানির পর চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর পাশাপাশি দেশটির উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি শহরে জরুরি অবস্থা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে সান্তিয়াগোর কাছে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে লুটেরাদের লাগানো আগুনে পাঁচ জন নিহত হয়েছে। দেশটিতে বিক্ষোভ শুরুর পর এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১০ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেল।

শুক্রবার চিলির পাঁচটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনইয়েরা। জরুরি অবস্থার ক্ষমতাবলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোকে লোকজনের চলাচল ও সমাবেশ করার অধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরও প্রতিবাদ, সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। এরকম অবস্থায় রাজধানী সান্তিয়াগোর পাশাপাশি চিলির উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কিছু শহরেও জরুরি অবস্থা জারি করার ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। সান্তিয়াগোর সেনা সদর দপ্তর থেকে রবিবার গভীর রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে পিনইয়েরা বলেন, ‘আমরা একটি শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে রয়েছি, যে মাত্রা ছাড়া সহিংসতা ব্যবহারে ইচ্ছুক।’

এর আগে রবিবার দিনভর সান্তিয়াগোতে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ দিনভর কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দমানোর চেষ্টা করেছে। এ দিন সান্তিয়াগোর প্রায় সব গণপরিবহন বন্ধ ছিল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্গামী সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং শহরটির সব দোকানপাটও বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে লুট ও অগ্নিসংযোগ অব্যাহত ছিল। প্রতিবাদকারীরা বহু বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়, মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর করে ও দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। সান্তিয়াগোর কাছে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে লুটেরাদের লাগানো আগুনে পুড়ে পাঁচ জন নিহত হন। রাতে সান্তিয়াগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেস চ্যাডউইক ঐ আগুন নাশকতাসহ বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত সহিংসতায় এদিন সাত জন নিহত হয়েছেন বলে জানান। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রথমে মেট্রোর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, পরে বর্ধিত ভাড়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলেও বিক্ষোভ থামেনি। আরো ছড়িয়ে পড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে। ১৯৯০ সালে একনায়ক আগুস্তে পিনোশের ক্ষমতা শেষে চিলিতে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এবারই প্রথম সান্তিয়াগোর রাস্তায় হাজার হাজার সৈন্য ও ট্যাংক নামানো হয়। বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে’ বলে সাফাই গেয়েছেন প্রেসিডেন্ট পিনইয়েরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশ জুড়ে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।