স্পোর্টস ডেস্ক
অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরদিনই সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব আখতার মন্তব্য করেছিলেন যে, শুধু অধিনায়ক হিসেবে নয়, খেলোয়াড় হিসেবেও দলের জায়গা থাকার কথা নয় সরফরাজ আহমেদের। কোচ ও নির্বাচক মিসবাহ উল হকও সেই কথাটাই যেন শুনলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি—দুই ফরম্যাটের কোনোটাতেই জায়গা হয়নি সদ্য সাবেক হওয়া অধিনায়ক সরফরাজের। এই ঘটনা যে ঘটতে যাচ্ছে, সেটা অধিনায়ক পরিবর্তনের দিন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডই (পিসিবি) জানিয়ে দিয়েছিল।
দল ঘোষণা করে মিসবাহ জানালেন বাজে ফর্মের কারণেই বাদ দেওয়া হয়েছে সরফরাজকে। লাহোরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে এই বিষয়টা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আসলে ব্যাপারটা পানির মতো সহজ। আমরা সবসময়ই সরফরাজকে সমর্থন করেছি। ও ভালো একজন খেলোয়াড়। পাকিস্তানের জন্য ও অনেক কিছু করেছে। কিন্তু ওকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে মূলত অফ ফর্মের কারণে।’
ইনজুরির কারণে দলে নেই পেসার হাসান আলী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে থাকা উমর আকমল ও আহমেদ শেহজাদও বাদ পড়েছেন। কোচ-নির্বাচক মিসবাহ জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তার দল ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলতে চান।
আর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে পাকিস্তান দল। সেখানে খেলবে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট। আর এই সিরিজ দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের যুগে প্রবেশ করবে পাকিস্তান ক্রিকেট। সরফরাজের ফিটনেস, পারফরম্যান্স কিংবা অধিনায়কত্ব— কোনোটাইতেই খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। টেস্ট দলের দায়িত্ব পেয়েছেন আজহার আলী। টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেবেন তরুণ ব্যাটসম্যান বাবর আজম। ওয়ানডের ব্যাপারে আপাতত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পিসিবি। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল আগামী ২৬ অক্টোবর যাবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। ৩১ অক্টোবর মূল সিরিজ শুরুর আগে সেখানে একটা প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে তারা। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে তিন নভেম্বর। প্রথম ম্যাচ সিডনিতে। দ্বিতীয় ম্যাচ পাঁচ নভেম্বর, ভেন্যু ক্যানবেরা। এরপর আট নভেম্বর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে পার্থে।
টেস্ট দলের খেলোয়াড়রা এর মধ্যে কায়েদ-ই-আজম ট্রফি খেলতে দেশের মাটিতে ব্যবস্থা থাকবে। ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর তাদের ম্যাচ আছে। এরপর দলটি যাবে অস্ট্রেলিয়ায়। প্রথম টেস্ট ব্রিসবেনে, শুরু হবে ২১ নভেম্বর। এরপর অ্যাডিলেডে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২৯ থেকে তিন নভেম্বর।
পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড:
বাবর আজম (অধিনায়ক), আসিফ আলী, ফখর জামান, হারিস সোহেল, ইফতিখার আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, ইমাম উল হক, শাদাব খান, মুসা খান, মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ রিজওয়ান, ওয়াহাব রিয়াজ ও খুশদিল শাহ।
পাকিস্তানের টেস্ট স্কোয়াড:
আজহার আলী (অধিনায়ক), আবিদ আলী, আসাদ শফিক, বাবর আজম, হারিস সোহেল, ইমাম উল হক, ইমরান খান সিনিয়র, ইফতিখার আহমেদ, কাশিফ ভাট, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মুসা খান, নাদিম শাহ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শান মাসুদ ও ইয়াসির শাহ।
