মুজিবের ডাকে যখন বাঙালি লড়ছে রণাঙ্গনে
তখনই ভেবেছি স্বাধীন হবোই—খটকা ছিল না মনে।
ভেবেছি মুক্ত জাতির চিত্তে জ্ঞানীরা জ্বালাবে আলো...
সেই দীপ্তিতে তাড়াব মনের অজ্ঞানতার কালো।
তারাই হবে যে জ্ঞানের দীপিকা, মেধার পথিকৃত্...
সেই ভরসায় হূদয়ে বেজেছে ঢেউভাঙা সংগীত।
এল মহাদিন বিজয়ের ক্ষণ জিঞ্জির ছেঁড়া ভোর—
জয় বাংলার জয়ো-হুংকারে জননী খুলল দোর।
বিজয়ী ছেলেরা ঘরে ফিরে আসে পতাকা উড়িয়ে কাঁধে
তেরো শত নদী কলরোল তুলে আছড়ে পড়ল বাঁধে...
ডাহর-ডাহুক, বাবুনাই-টিয়া খুশিতে উঠল ডেকে...
উতলা বাতাস বলল, বাঙালি স্বাধীন আজকে থেকে।
মুক্ত আকাশ খুশিতে সারস হয়ে গেল পথভোলা...
তিন্তিড়ি বনে শিঞ্জিনী বাজে, গেওগাছে ওঠে দোলা...
জংলি কাপাস ছড়িয়ে পড়ল শুকনো খোলস ফেটে...
খুশির আবেগে ‘ম-য়ে কারে মা’ শিশুটি লিখল শ্লেটে।
খুশি শুধু খুশি খুশির আলোতে আঁধার গেল না দেখা;
কেউ বুঝল না সুখের পেছনে শোকের কাহিনি লেখা!
রেশ না কাটতে সর্বনাশের বার্তা ছড়াল হাওয়া...
তাঁরা সব শেষ—যাঁদের আলোয় আলোকিত হতে চাওয়া।
বিজয় আসছে—দুটি রাত গেলে বাঙালি মুক্ত জাতি—
সে-কথা বুঝেই নরপশুগুলো নেভাতে চাইল বাতি।
ভেবেছিল নব-স্বাধীন জাতিকে মেধাহীন করে দিলে—
মাথা তুলবার সাধ্য হবে না, অজ্ঞতা খাবে গিলে।
এ-কথা ভেবেই একটি রাতেই করে দিল সব শেষ—
হাসতে হাসতে কেঁদে ওঠে শোকে বিজয়ী বাংলাদেশ!
সেই কালো রাত, বেদনার রাত—চৌদ্দ ডিসেম্বর...
শোকে ভেজা বুকে চেতনার দীপ জ্বালায় নিরন্তর।
পশু-হানাদার—তাদের দোসর ঘৃণ্য আলবদর...
জ্ঞানীদের মেরে চেয়েছে জাতিকে রাখতে নিরক্ষর।
ওরে বর্বর—জ্ঞানকে কখনো হত্যা করা কি যায়?
মরেও ওঁরা যে অমর—তাঁদের আলো আজো ঝলকায়।
তাঁরা তো জাতির জ্ঞানের আধার বিবেকের দীপাবলি...
আলোর মিছিলে তাঁদের আলোয় আমরা এগিয়ে চলি।
