ঘুচছে না নৌপথ যাত্রায় মহেশখালীবাসীর দুর্ভোগ!

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৬

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার

৩১ বছরেও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় নৌপথের যাত্রায় কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীবাসীর দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। ক্রমে নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় কক্সবাজারের ছয় নম্বর জেটি ঘাট ও গোরকঘাটা জেটি দিয়ে ভাটার সময় যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জেটি ঘাট থেকে প্রতি বছর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও জেটি সম্প্রসারণেও পৌর কর্তৃপক্ষ যুগোপযোগী ব্যবস্থা নেয় না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। ভাটার সময় বোটে ওঠানামায় প্রসূতি কিংবা বয়োবৃদ্ধ রোগী আনা-নেয়ায় ভোগান্তির মাত্রা অবর্ণনীয় বলে অভিযোগ দ্বীপবাসীর।

মহেশখালী পৌরসভা সূত্র জানায়, মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটার পূর্বপাশে ১৯৮৮ সালে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের একটি জেটি নির্মাণ করা হয়। পরে সমুদ্রপাড় ভরাট হয়ে যাওয়ায় ২০০০ সালে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে জেটির পূর্বপাশে আরো ১০০ মিটার সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু ক্রমে নদীর তীর ভরাট হয়ে যাওয়ায় সম্প্রসারিত জেটিও মানুষের ভোগান্তি কমাতে পারেনি।

মহেশখালী-কক্সবাজার যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। চকরিয়ার বদরখালী এলাকায় একটি ব্রিজে মহেশখালী পার হওয়া গেলেও উপজেলা সদরসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের লোকজনের যোগাযোগের ভরসা কক্সবাজার বাঁকখালী নদী হয়ে নৌযানই। কক্সবাজার পৌরসভার ছয় নম্বর ও মহেশখালী জেটি থেকে ভাটার সময় কাদা মাড়িয়ে নৌকা ও স্পিডবোটে ওঠানামা করতে হয় যাত্রীদের। যুবক ও কর্মঠ পুরুষরা যেকোনো ভাবে কাদা মাড়িয়ে কাঠের ট্রলার বা স্পিডবোটে উঠতে পারলেও নারী-শিশু এবং বয়োবৃদ্ধরা দুর্ভোগে পড়েন। এসব ভোগান্তি মাড়িয়ে পর্যটকরা মহেশখালী যেতে চান না।

কালারমারছরার ইউনিয়নের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট নোমান শরীফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেনেছি মহেশখালীর গোরকঘাটা জেটি থেকে প্রতিবছর পৌর কর্তৃপক্ষ প্রায় অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। কিন্তু এ আয়টুকু ব্যবহার করলেও প্রতি বছর জেটিটি সম্প্রসারণ হয়ে যেত। ভাটার সময় ডেলিভারি রোগী ও বয়োবৃদ্ধদের নিয়ে পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে মহেশখালী এখন স্বর্ণদ্বীপ। ৩ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার দ্বীপবাসীর উন্নত যাতায়াত নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে এটি অসম্ভব কিছু নয়।

স্পিডবোট চালক সমিতির নেতা হামিদুল হক বলেন, যাত্রীদের পাশাপাশি আমাদেরও কষ্টের শেষ নেই। ভাটার সময় যাত্রী একেবারে কমে যায়। এ নিয়ে প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও কোনো কাজ হয়নি। গত বছর জেটির সম্মুখ অংশ ড্রেজিং করা হয়। অল্পদিন যেতে না যেতেই আবারও ভরাট হয়ে গেছে জেটি মুখ। ফলে ভোগান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না।

মহেশখালী জেটি ঘাটে নৌযান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম জানান, ভাটা দিয়েই দুর্ভোগ শুরু হয়। পূর্ণ ভাটায় জেটি থেকে অন্তত ২০০ গজ দূরে আটকে পড়ে সব ধরনের নৌযান। এ সময় কোনো নৌযানই ঘাটে  ভেড়া দূরে থাক বিকল্প বাহন ডিঙি নৌকাও চলাচল করতে পারে না। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যুগের পর যুগ।

মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটের নিয়মিত যাত্রী প্রভাষক মাহবুবুর রহমান বলেন, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট  জোন সোনাদিয়া দ্বীপকে ঘিরে মহেশখালী এখন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কাজের খাতিরে ভিআইপিসহ নানা সংস্থার লোকজন মহেশখালীতে আসছেন। নৌপথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহেশখালী জেটির সম্প্রসারণ ও কক্সবাজার জেটিসহ উভয় জেটির সামনে পর্যাপ্ত ড্রেজিং জরুরি।

মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকসুদ মিয়া বলেন, সরকারি খাস কালেকশনে জেটি  থেকে প্রতিবছর ৪০-৫০ লাখ টাকা আয় হয়। এটি জেটিসহ পৌর উন্নয়নে ব্যবহূত হয়। গত বছর ড্রেজিং করার পর কিছুদিন সুফল পেলেও আবারও তা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে আবার ড্রেজিং ও জেটি সম্প্রসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে ভোগান্তির কথা আমরা জানি। সে জন্য ড্রেজিং শুরু করা হয়েছিল। দ্বীপের গুরুত্ব বিবেচনায় মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে ফেরি চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে কষ্ট লাঘব হবে বলে আশা করা যায়।