মাঠ কাঁপানো রামগড়ের ক্রীড়াঙ্গন এখন মৃতপ্রায়!

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫১

৩৭ বছরেও সম্পন্ন হয়নি স্টেডিয়ামের কাজ

নিজামউদ্দিন লাভলু, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির রামগড়ে মহকুমা আমলের স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি ৩৭ বছরেও। অন্যদিকে প্যাভিলিয়ন ভবনটি এখন ধ্বংসের পথে। স্টেডিয়ামটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় এখানে ক্রীড়াচর্চা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এক সময়ে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে মাঠ কাঁপানো রামগড়ের ক্রীড়াঙ্গন এখন মৃতপ্রায়।

জানা  গেছে, মহকুমা আমলে ১৯৮২-৮৩ অর্থসালে রামগড়ে সরকারিভাবে  স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মহকুমা পর্যায়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ঐ বছর প্রথম দাফায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় তত্কালীন জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। পরের অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় আরো  ১ লাখ ৬ হাজার টাকা।  বরাদ্দকৃত ৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সাবেক রামগড় মহকুমা সদরের মাস্টারপাড়ায় স্টেডিয়ামের জন্য ২ একর ৪০ শতক ভূমি ক্রয় এবং একটি প্যাভিলিয়ন ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের আগস্টে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য আরো ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়।

জানা  গেছে, ঐ সময়  পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো রামগড়েও  অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। ফলে বরাদ্দকৃত এ টাকা ফেরত যায়। কিন্তু এর পরে স্টেডিয়ামের অসমাপ্ত কাজ করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ বা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে অসমাপ্ত অবস্থায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এটি। এদিকে দীর্ঘদিন যাবত্ পরিত্যক্ত থাকায় প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্যাভিলিয়ন ভবনের দরজা,জানালা খুলে নিয়ে যায় অসাধু লোকজন। অসামাজিক কাজের আখড়ায় পরিণত হয় ভবনটি। বর্তমানে এটি জরাজীর্ণ হয়ে ধ্বংসের পথে। উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৮ সালের মার্চে অসম্পূর্ণ স্টেডিয়ামের ক্রয়কৃত ভূমির রেকর্ড সংশোধন ও উন্নয়নের ব্যাপারে তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. অলিউল্লাহর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়। কিন্তু পরে এ ব্যাপারে আর কোনো উদ্যোগ বা অগ্রগতি দেখা যায়নি।

রামগড় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ স্বপন দে বলেন, ‘খেলাধুলার উপযুক্ত কোনো মাঠ না থাকায় রামগড়ের ক্রীড়াঙ্গন এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। অথচ একসময়  পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার মাঠ কাঁপাতো এখানকার খেলোয়াড়রা।’ তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের জোর দাবি জানান। রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ইসরাত জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের  দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকায় আছে  রামগড়। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে এ উপজেলায়ও  নির্মাণ করা হবে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। তিনি বলেন, ‘অসম্পূর্ণ রামগড় স্টেডিয়ামেই এটি নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবুল বশর পাটোয়ারী জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আনোয়ার হোসেন গত ৯ অক্টোবর রামগড়ের পরিত্যক্ত স্টেডিয়ামটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।