শপথ নিয়ে বিচারকাজে হাইকোর্টের অতিরিক্ত ৯ বিচারপতি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০০

ইত্তেফাক রিপোর্ট

শপথ নিয়েছেন হাইকোর্টের নবনিযুক্ত ৯ জন অতিরিক্ত বিচারপতি। গতকাল সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাদের শপথ পড়ান। এ সময় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ উপস্থিত ছিলেন। শপথ গ্রহণের পর নবনিযুক্ত বিচারপতিরা বিচারকাজ পরিচালনায় অংশ নেন। শপথ নেওয়া বিচারকরা হলেন, বিচারপতি মুহম্মদ মাহ্বুব-উল ইসলাম, বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন, বিচারপতি মো. জাকির হোসেন, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার, বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেন, বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল, বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক ও বিচারপতি কাজী জিনাত হক।

শপথের পর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন এজলাসে গিয়ে নবনিযুক্ত বিচারপতিদের সংবর্ধনা দেন। এ সময় সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ তাদের দুই বছরের জন্য হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। নিয়োগের পরই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের বেশকিছু বেঞ্চ পুনর্গঠন করেন। প্রসঙ্গত হাইকোর্টে ৯২ জন বিচারপতি রয়েছেন। গতকাল ৯ জন অতিরিক্ত বিচারপতি শপথ নেওয়ায় হাইকোর্টে বিচারপতির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১০১ জনে।

সম্প্র্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন

অটুট রাখার আহ্বান সম্প্র্রীতি বাংলাদেশের

৩৭ বিশিষ্টজনের বিবৃতি

ভোলার বোরহান উদ্দিনে এক হিন্দু যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অবমাননাকর বক্তব্য ছড়ানোর পর ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে চার জন নিহত এবং ১০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের ৩৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এ অভিমত ব্যক্ত করেন । একই সঙ্গে ঐ ঘটনাকে পুঁজি করে দেশের আর কোনো স্থানে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শত সহস  বছরের সংস্কৃতিতে লালিত সম্প্র্রীতির বাংলাদেশে সম্প্র্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা অনভিপ্রেত এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। বিবৃতি দানকারীরা হলেন—শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, প্রফেসর আ. মান্নান, মাহফুজা খানম, শফিকুর রহমান এমপি, বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, রামেন্দু মজুমদার, প্রফেসর কামরুল হাসান খান, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, অ্যারোমা দত্ত এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলি শিকদার, ডা. উত্তম বড়ুয়া, মেজর জেনারেল (অব.) জন গোমেজ, মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, একেএম আতিকুর রহমান, হারুন হাবিব, ড. মোহাম্মদ সামাদ, গোলাম কুদ্দুছ, অধ্যাপক ডা. হারিছুল হক, প্রফেসর আ ব ম ফারুক, শরীফ সাহাবুদ্দিন, নুজহাত চৌধুরী, জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ।

বিবৃতিদাতারা বলেন, ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় হামলা চালিয়ে লুটপাটসহ ১২টি বৌদ্ধ মন্দির ও ত্রিশটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ নামে এক মত্স্যজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়ের ঘর-বাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়। আমরা ধারণা করি বোরহানউদ্দিনে ঘটে যাওয়া সম্প্র্রীতি বিনষ্টের ঘটনা পরিকল্পিত অপচেষ্টারই অংশ।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সকল প্রকার সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য উসকানি ও গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে । একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির জনকের আদর্শ এবং দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টে দেশি-বিদেশি সকল প্রকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে সম্প্র্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানায় সম্প্র্রীতি বাংলাদেশ।