সামাজিক অস্থিরতার কারণে সিলেটে পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডই ঘটছে ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধের জেরে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এসব হত্যাকাণ্ড বেশি ঘটছে। গত সাড়ে তিন বছরে সিলেট বিভাগে ৭৭৩টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এসব মামলার দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হলে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি হত্যা মামলার রায় পেতে ৮-১০ বছর সময় লেগে যায় বলে জানান পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র জানান, গত তিন বছরে সিলেট বিভাগে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার বেশির ভাগই পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ থেকে। আইন অনুসরণ করে এই বিচার পেতে ৮-১০ বছর লেগে যায়। এই ক্ষেত্রে অনেক সময় বাদী-বিবাদী বিষয়টি আপস করে ফেলেন।
হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র বলেন, মামলার চার্জশিট দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বিধান নেই। তিনি বলেন, চার্জশিটের ক্ষেত্রে পুলিশের সমস্যা হয় ময়নাতদন্ত ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং আহতরা যেসব জায়গা থেকে চিকিত্সা নেন ঐ সব জায়গা থেকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেটগুলো নিতে। তিনি আরো বলেন, চার্জশিটে বিলম্ব হওয়ার আরেকটি কারণ আদালতে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজিও দেন বাদী। নারাজি দিলে কোর্ট এটা গ্রহণ করতে পারে আবার নাও করতে পারে। যদি আদালত মনে করে এখানে আরো তদন্তের বিষয় আছে, তখন নির্দিষ্ট পয়েন্ট উল্লেখ করে চার্জশিট ফেরত পাঠানোর নিয়ম আছে। এক্ষেত্রে আবার নতুন করে চার্জশিট দিতে হয়। এ জন্যই চার্জশিট প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘ হয়ে যায়। এসব অনেক ধাপ অনুসরণ করা লাগে। পরে কোর্টের বিচারকার্য শুরু হয়। তিনি বলেন, ঘটনা ঘটার পর মামলা করলেও কিছুদিন পর বাদী-বিবাদী মিলে গেলে কেউ কোর্টে যেতে চায় না। এরপর তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে ফেলেন। বিচার দ্রুত হলে এসব ঘটনা সালিশে শেষ করার প্রয়োজন হতো না।
এদিকে, গত সোমবার দিরাইয়ের শিশু তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা এখনো সিলেটবাসীর মুখে মুখে। ঘটনার পর থেকে তুহিনদের কেজাউড়া গ্রাম শোকে স্তব্ধ। শিশুর মা মনিরা বেগম থানায় মামলা করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকারী যেই হোক, দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। হত্যাকাণ্ডের পর শিশুর বাবা, চাচা ও চাচাতো ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করলে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। শুক্রবার রিমান্ড শেষে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
