দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছর দণ্ড

বিএনপির এমপি হারুন কারাগারে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৫

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি অনাদায়ে আরো ছয় মাসের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনায়েতুর রহমান বাপ্পীকে দুই বছরের সাজার পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া গাড়ি ব্যবসায়ী ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছরের দণ্ডের পাশাপাশি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম দণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত এ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম             এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করে পরবর্তীকালে তা বিক্রি করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের দণ্ড দেওয়া হলো। রায়ের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হারুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। এরপরই তাকে কারাগারে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

এদিকে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় হারুন-অর রশিদের সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে গেছে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি আর সংসদ সদস্য পদে বহাল নেই। এ নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ও রয়েছে। দুদক কৌঁসুলি বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সেখানে সাজা স্থগিত চাইতে পারেন, সেটা একান্তই তার ব্যাপার। তবে সাজা স্থগিত হবে কিনা সেটা আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, চারদলীয় জোট সরকার আমলে সংসদ সদস্য থাকাকালে শুল্কমুক্ত সুবিধায় এমপি হারুন ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল ব্রিটেন থেকে হামার ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি ক্রয় করেন। ঐ বছরের ২৬ এপ্রিল তিনি গাড়িটি স্কাই অটোসের মালিক ইশতিয়াক সাদেকের কাছে ৯৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। ইশতিয়াক সাদেক গাড়িটি চ্যানেল নাইনের এমডি এনায়েতুর রহমান বাপ্পীর কাছে বিক্রি করেন। নিয়ম অনুযায়ী শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু এমপি হারুন আইন ভঙ্গ করে গাড়িটি বিক্রি করে শুল্ক বাবদ সরকারের ৮৭ লাখ ৭১ হাজার ৬১২ টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় সেনাসমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ এসআই ইউনুছ আলী রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। ঐ বছরের ১৮ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক তিন জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেন। ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট অভিযোগ গঠন হয়। দীর্ঘদিন ঐ স্থগিতাদেশ চলমান থাকায় নিম্ন আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়নি। পরে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে মামলার বিচার শুরু হয়।