দেশের প্রতিটি মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনতে প্রতিটি উপজেলায় ‘কমিউনিটি ভিশন সেন্টার’ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক জাহিদ মালেক এমপি। তিনি বলেন, ন্যাশনাল আই কেয়ারের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৫০টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও চিকিত্সাসেবা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই সেন্টারের মাধ্যমে চক্ষুসেবা পেয়েছে অন্তত দেড় কোটি মানুষ।
গতকাল সোমবার দুপুরে আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল আয়োজিত বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন। এ বছর দৃষ্টি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে দৃষ্টি’। দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, ওএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহাদাত হোসেন (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক এবং ন্যাশনাল আই কেয়ারের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যে কয়টি পরিচ্ছন্ন প্রতিষ্ঠান আছে, ‘তার মধ্যে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট একটি। আমাদের দেশের সাড়ে ৭ লাখ মানুষ অন্ধ, যাদের অপারেশন করালে সুস্থ হতে পারে। আমরা সারা বছর আড়াই লাখ রোগীর অপারেশন করাতে পারি। আমাদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ অথবা পুস্টিকর খাবার যদি আমরা শিশুদের না দিতে পারি, তাহলে শিশুরা অন্ধত্ব বরণ করতে পারে।” মন্ত্রী চিকিত্সক পদোন্নতির বিষয়ে বলেন, দেড় হাজার চিকিত্সককে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে আরো দেড় হাজার চিকিত্সককে পদোন্নতি দেওয়া হবে।
অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞানের বাজেট বাড়তে বাড়তে বর্তমান অর্থবছরে ৯০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটকে আন্তর্জাতিক মানের করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সে বিষয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, চোখের ছানিজনিত অন্ধত্ব দূরীকরণে প্রতিটি জেলায় চক্ষু বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য জনগণের মধ্যে চক্ষু রোগবিষয়ক অন্ধত্ব নিবারণে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
