প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দীন বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
অপরদিকে দুদকের আরেক উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা দায়ের করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে অসত্ উদ্দেশ্যে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকার সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রেখেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অপর দিকে খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অসত্ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ৫০০ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রেখেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযানে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে জি কে শামীমকে নিকেতনে তার নিজ কার্যালয় জিকে বিল্ডার্স ভবন থেকে আটক করে র্যাব। এ অভিযানে র্যাব সদস্যরা শামীমের ব্যাবসায়িক কার্যালয় থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার এফডিআর চেক ও ১০ কোটি টাকা নগদ অর্থসহ বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ ও ইয়াবা জব্দ করে। এছাড়া তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করা আরো দুটি অস্ত্র, কয়েক রাউন্ড গুলি ও ৫৮২ পিস ইয়াবা জব্দ করে র্যাব। এছাড়া তার বাসার শোকেস থেকে ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ও ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা সমমূল্যের মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়।
